অবয়ব - রুদ্র আমিন

অবয়ব (পর্ব-১)

অবয়ব

-এই কে রে তুই? মাতালের মতো প্রলাপ বকছিস, তোকে বাড়িতে ঢুকতে দিলো কে?
-আরে আমার বাড়িতে আমি ঢুকেছি তাতে তোর কি? প্রশ্নটা তো আমার করার কথা ছিলো, তুই কে?
-আজব তো, মাতালের কথায় দেখি মাতলামির সাথে আরও কিছু, তা এটা কি আপনার বাড়ি? আপনার বাবার নাম কি? মায়ের নাম কি? অতঃপর বলুন আপনার বউয়ের নাম কি?

– হাসতে হাসতে মনে হচ্ছে তানিমের বুকে খিল লেগে যাচ্ছে, এভাবেই হাসির মাঝে থেমে থেমে বললেন, তা বউয়ের নাম দিয়ে কি হবে? বাবা-মায়ের নামে কি চলে না? ও বুঝতে পারছি বউ বুঝি আপনাকে বেধম পেটায়?
-হতভম্ব হয়ে করিম সাহেব বলতে লাগলেন, বউ আমাকে পেটাবে ক্যানো? বউ কি স্বামী পেটায়?
-না মানে, বউয়ের নাম জিজ্ঞেস করলে তো তাই
-এতো শতো কথা বুঝিনা আপনি এইবাড়িতে ক্যানো এসেছেন বলুন, মাতালের সাথে কথা বলতে ভালো লাগে না।
-ক্যানো এটা আমার বাড়ি
-এই কিন্তু বেশি বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে, গার্ড ডেকে পেটাতে পেটাতে বাড়ি থেকে বের করে দিবো..
-পূর্বের ন্যায় হাসতে হাসতে তানিম বললেন, আপনার বাড়ির যে গার্ড সেতো আপনার মতোই, বউ ভীতু, আর সেই সুযোগটা নিয়ে তাকে গার্ড টয়লেটে ঢুকিয়ে বাহিরে আটকিয়ে দিয়েছি। তা তার মতো কি আপনাকেও করবো নাকি?

-যাক গে এবার বলুন, ক্যানো এবং কি কারনে এই বাড়িতে আপনি প্রবেশ করেছেন?
-দেখুন এককথা বার বার বলতে ভালোবাসি না, মাথাটা খারাপ হলে কিন্তু আপনার অবস্থা খারাপ হবে
-বিরবিরিয়ে করিম সাহেব বলতে লাগলেন, মাতালের আবার মাথা খারাপ-ভালো, শালা মাতলামী করছে আবার বলছে মাথা খারাপ হলে খারাপ হবে কিন্তু
-হঠাৎ জোরে চিৎকার করে উঠলেন তানিম, এই বউয়ের চামচা আকাশের দিকে তাকিয়ে কি কথা হচ্ছে? কাক পায়খানা করবে তো..
-আপনি কিন্তু ধৈর্যের সীমানা অতিক্রম করে ফেলছেন, এতো বাড়াবাড়ি না করে বলুন, ক্যানো এসেছেন?
-এটা আমার বাড়ি, আর আমার বাড়িতে তো আমি আসবোই
-তা কি করে আপনার বাড়ি হলো বুঝি?

-আপনার বউ আমার প্রাক্তন প্রেমিকা, প্রেম করা কালীন বেশ অর্থকরি আত্মসাৎ করেছেন, আর আমাকে ফাঁকি দিয়ে আপনার মতো অর্ধমহিলাকে বিয়ে করেছে, শুনুন তার সাথে তখন আমার অন্তরঙ্গ মেলামেশা ছিলো, আজ আমি নেশা করেছি একটু বেশি, এতোদিন পর তার সন্ধান পেয়েছি।
-তা বুঝলাম, সে কথা না হয় আরেকদিন শুনবো, ক্যানো এসেছেন সেই কথার জবাব দিন
-আবারও কিন্তু আপনি এক কথাই বলছেন, আরে ভাই আপনার সাথে বিয়ে হয়েছে তার ৫ বছর আর আমাদের সাথে সম্পর্কও ছিলো ৫ বছর..এবার হিসেব করুন, ভাগাভাগির অংক করেছেন কোনোদিন… সমানে সমান। এটা আপনার বাড়ি হলে আমার কোনো কথাই নেই কিন্তু আপনার বউয়ের বাড়ি হলে এটার অর্ধেক আমার..

-মহা বিপদে পড়লাম লোকটাকে নিয়ে, কি সব বলছে, আচ্ছা শুনুন আপনি শুক্রবার আসবেন বাসায়, আমরা বাসায় থাকবো দুজনা, তারপর আপনার হিসেব আপনি বুঝে নিবেন।
-ধন্যবাদ, এমন সহজ কথায় আপনাকে ধন্যবাদ, আসুন হাতে হাত মেলাই..

—চলবে

রুদ্র আমিন

মোঃ আমিনুল ইসলাম রুদ্র, জন্ম : ১৪ জানুয়ারি, ১৯৮১। ডাক নাম রুদ্র আমিন (Rudra Amin)। একজন বাংলাদেশ কবি, লেখক ও সাংবাদিক। নক্ষত্র আয়োজিত সৃজনশীল প্রতিযোগিতা-২০১৬ কবিতা বিভাগে তিনি পুরস্কার গ্রহণ করেন। জন্ম ও শিক্ষাজীবন মোঃ আমিনুল ইসলাম রুদ্র ১৯৮১ সালের ১৪ জানুয়ারি মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর উপজেলার ফুলহারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মোঃ আব্দুল হাই ও মাতা আমেনা বেগম। পরিবারে তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি বড়। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা জীবন কেটেছে খাগড়াছড়ি এবং বগুড়া সদর উপজেলায়। বগুড়ার আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন পাবলিক স্কুল ও কলেজ থেকে এসএসসি ও মানিকগঞ্জের দেবেন্দ্র কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর তিনি ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি থেকে ডিপ্লোমা ইন কম্পিউটার গ্রাফিক্স ডিজাইন কোর্স সম্পন্ন করেন। কর্মজীবন মূল পেশা থেকে দূরে সরে গিয়ে তিনি লেখালেখি এবং সাংবাদিকতায় জড়িয়ে পড়েন। তিনি প্রায় সব ধরনের গণমাধ্যমে কাজ করেছেন। কাজ করেছেন দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকায়। বর্তমানে তিনি জাতীয় দৈনিক আলোকিত প্রতিদিন এর ষ্টাফ রিপোর্টার ও অনলাইন নিউজপোর্টাল নববার্তা.কম এর প্রকাশক ও সম্পাদক হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি উইকিপিডিয়াকে ভালোবেসে উইকিপিডিয়ায় অবদানকারী হিসেবে উইকিপিডিয়া অধ্যয়নরত আছেন। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ : যোগসূত্রের যন্ত্রণা (২০১৫); আমি ও আমার কবিতা (২০১৬); বিমূর্ত ভালোবাসা (২০১৮)। প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ : আবিরের লালজামা (২০১৭)।

https://rudraamin.com

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।