কবি আহসান হাবীব

কবি আহসান হাবীব

গুণীজন

আধুনিকতা ও জীবনবোধের কবি আহসান হাবীব এর ১০৩তম জন্মবার্ষিকী। ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি কবি আহসান হাবীব পিরোজপুরের (সাবেক বরিশাল জেলার) সংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম হামিজুদ্দীন হাওলাদার এবং মাতা জমিলা খাতুন। অর্থনৈতিকভাবে অস্বচ্ছল পিতা-মাতার দশজন সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন প্রথম সন্তান। সাহিত্যের অনুকূল পরিবেশ নিয়ে পিরোজপুর গভর্নমেন্ট স্কুল থেকে ১৯৩৫ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর তিনি ভর্তি হন বরিশালের বিখ্যাত বিএম কলেজে। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে কলেজের পড়াশোনার পাঠ শেষ পর্যন্ত অসমাপ্ত রাখতে হয়। বিএম কলেজে দেড় বছর পড়ার পর ১৯৩৬ সালের শেষার্ধে কাজের খোঁজে তিনি রাজধানী কলকাতায় পাড়ি জমান।

এভাবেই কবি আহসান হাবীবের বরিশাল থেকে তৎকালীন রাজধানী কলকাতায় পদার্পণ। স্কুলে পড়াকালীন সময় থেকেই তার কবিতা বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হতে থাকে। স্কুল ম্যাগাজিনে প্রকাশিত ‘মায়ের কবর পাড়ে কিশোর’ তার প্রথম মুদ্রিত রচনা। বাইরের পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত কবিতা ‘প্রদীপ’ বের হয় শরিয়তে ইসলাম পত্রিকায়। এরপর তার কবিতা কলকাতার বিভিন্ন পত্রিকা যেমন- দেশ, মাসিক মুয়াজ্জিন, সাপ্তাহিক মোহাম্মদী, সাপ্তাহিক হানাফীতে প্রকাশিত হয়।

তার প্রকৃত জীবনসংগ্রামের শুরু হয় কলকাতায়। সেখানে অবস্থানকালে তিনি তকবীর, দৈনিক আজাদ, দৈনিক কৃষক, মাসিক সওগাত, দৈনিক ইত্তেহাদ ও আকাশবাণী বেতারে চাকরি করেন। কলকাতায় মেসবাড়ির দুর্বিষহ জীবনের মধ্যে তিনি সময় বের করে নিভৃতে কাব্যচর্চা চালিয়ে গেছেন। জীবনের ওই চরম মুহূর্তের মধ্যেও তিনি ফলিয়েছেন কবিতার সোনার ফসল। বাংলা কবিতার ভুবনে যুক্ত করেছেন এক হিরন্ময় অধ্যায়। আমাদের এই বাংলায় উত্তরাধুনিক যুগ আর পথ নির্মাণে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন আহসান হাবীব।

তখন কবিতার পাশাপাশি উপন্যাস, গল্প, শিশুতোষ রচনা, অনুবাদ, প্রবন্ধ, নিবন্ধ এবং স্মৃতিকথাও লিখেছেন তিনি। আহসান হাবীব কলকাতায় ১৯৩৬ সাল থেকে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত অবস্থান করেন। বলতে গেলে তার সাহিত্যচর্চার স্বর্ণযুগ ছিল ওই সময়ই। বিশেষ করে ১৯৩৭ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত এক দশক তিনি নিরলসভাবে লিখে গেছেন। জীবনের অধিকাংশ সেরা ও বিখ্যাত কবিতা ও গল্পগুলো তিনি লিখেছেন ওই সময়েই। কবি খ্যাতির শীর্ষে অবস্থান করেও আহসান হাবীব তার অন্যান্য রচনাতেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

বাংলা কবিতার ক্রমবিকাশের পথ ধরে তিরিশোওর কালের কবিতার ধারায় কবি আহসান হাবীব এক অনিবার্য নাম। প্রথম প্রকৃত আধুনিক কবি হিসাবে তিরিশের আধুনিক চিন্তাশৈলী, স্বতন্ত্র কাব্যভাষা ও তার পথ ধরে কবিতায় অনন্ত দর্শন ও কাব্যও আধুনিক মননশৈলী নির্মাণে আহসান হাবীব নতুন পথ সৃষ্টি করেছিলেন। পঞ্চাশের কাব্য আন্দোলনের উওর পুরুষ হিসেবে আধুনিক কবিতার উওরাধিকার অনিবার্য করে তুলে ছিলেন আহসান হাবীব। কবিতায় জীবন দর্শনের শিল্পরীতি, চৈতন্যে জুড়ে তীব্র দহন, অস্তিত্বের সংকট, মধ্যবিও জীবনের আকাক্সক্ষার স্বরূপ নির্মাণে নিজস্ব শক্তিমত্তায় ঋদ্ব করেছেন আহসান হাবীব। কবি হুমায়ুন আজাদ এক মূল্যায়নে আহসান নিয়ে বলেছেন- ‘আহসান হাবীবের কবিতাই আমাদের আধুনিকতা চর্চার প্রকৃত সোপান তৈরি করেছেন। তিরিশের কবিরা কবিতায় যে রবীন্দ্রোত্তর ধারা প্রবাহিত তরেছেন আহসান হাবীব তাতে অবগাহন করেছেন। প্রকৃতপক্ষে আহসান হাবীব তার রচনাকর্মে আশাবাদ, সচেতনতা, ভাষাশৈলীতে আধুনিকতার সজ্ঞাকে মুক্ত ও সম্প্রসারিত করেছেন। কবি হিসেবে বরেণ্য কেবল আমাদের কাছে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের কারণে নয়, তিরিশোত্তোরকালে আবির্ভূত তিনিই আমাদের শ্রেষ্ঠ আধুনিক কবিদের একজন’।

কবি আহসান হাবীব কবিতায় নির্মাণ করেছেন স্বদেশলগ্নতা, জীবনঘনিষ্ঠতা, মানবিক বেদনাবোধ, প্রেমানুভবের উৎসারণ, নিজস্ব আত্মজৈবনিক কাব্যশৈলী। তিরিশ কাব্যশৈলীর আধূনিকতার সঙ্গে রবীন্দ্র-নজরুল যুগের কাব্যকলার সংমিশ্রণে দেশ ও জীবনবোধের সাহচর্যে নতুন আধুনিক কাব্য আন্দোলনের সূচনাক্রম উদ্ভাসিত হয়েছে আহসান হাবীবের সব রচনাকর্মে। তাইতো আহসান হাবীব শুধূ আমাদের প্রকৃত আধুনিক কবি নন, উত্তরাধুনিকতার এক পথ প্রদর্শক। কারণ তিনি কবিতায় তুলে ধরেছেন সমকালীন ইতিহাস, সমাজ, জীবন বাস্তবতা, কাব্য নিরীক্ষা, ঐতিহ্যের নবরূপায়ণ, দার্শনিকতার নতুনবোধ ও শিল্পরীতি।

১৯৪৭ সালে প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘রাত্রিশেষ’ প্রকাশিত হয়েছিল কলকাতা থেকে। রাত্রিশেষের কবিতাগুলো ১৯৩৮ থেকে ১৯৪৬ সালের মধ্যে রচিত হয়েছিল। বাঙলা কবিতা যখন দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পরিবর্তন, পরাধীনতা, বৈষম্য, দাঙ্গা ও মহামারী, ছাড়াও রাজনৈতিক জটিলতার মধ্যে আবর্তিত সে সময় বাংলাদেশের বরেণ্য আধুনিক ধারার ঔপন্যাসিক, গল্পকার সৈয়দ ওয়ালীউল্ল্যাহর প্রকাশনা সংস্থা কমরেড পাবলিশার্স থেকে প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থে আহসান হাবীব সমকালীন সমাজের জীবনযাপনের নানান অনুষঙ্গ গভীর অন্তর্দৃষ্টিতে চিত্রিত করেছেন তার লেখনিতে। ১৯৫০ সালে বাংলাদেশের প্রথম উল্লেখযোগ্য কবিতা সংকলন ‘নতুন কবিতা’র মধ্য দিয়ে যে নতুন পথ নির্মাণ হয় সে সময়ে সংকলনের সব কবিতাই নতুন আধুনিকতার প্রতিনিধি ছিল। তাদের রচনাতে ভাষার দক্ষতা, রুচিবোধ, বিষয় বৈচিত্র্যতা নতুন আঙ্গিকে উঠে আসে। পরবর্তীতে নতুন কাব্যর নিজস্বতার পথ ধরে কাব্য সংকলনের দিক নির্দেশনায় এগিয়ে গেছে কবিদের কাব্য আন্দোলন।

বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের চেতনায় মধ্যবিও সমাজের প্রগতিশীল নতুন রাজনৈতিক ধারার সাথে কাব্য আন্দোলনে স্বতন্ত্র ধারার সৃষ্টিকর্ম নিয়ে আবির্ভূত হন আহসান হাবীব। প্রথম কাব্যগ্রন্থের দীর্ঘ বিরতির পর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘ছায়াহরিণ’ (১৯৬৩) ছাড়াও এক এক নতুন শৈলীতে কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হতে থাকে নতুন নতুন চেতনায়। যেমন- সারা দুপুর (১৯৬৪), আশায় বসতি (১৯৭৪), মেঘ বলে চৈত্রে যাবো (১৯৭৬), দুই হাতে দুই আদিম পাথর (১৯৮০), প্রেমের কবিতা (১৯৮৫) এবং সর্বশেষ কাব্যগ্রন্থ ‘বিদীর্ন দর্পণে মুখ’ (১৯৮৫)। ছাড়াও কবির ৬৮ বছরের জীবনে উপন্যাস, শিশুতোষ উপন্যাস ‘রানী খালের সাঁকো’, শিশু-কিশোর উপযোগী ছড়া, কবিতা ও গল্প রচনায় নিবেদিত ছিলেন। কবিতায় স্বদেশ, সমাজ, জীবনবোধের সংগ্রামী চেতনা, মধ্যবিত্ত জীবনের টানাপড়েনের সংকটবোধ ও আধুনিকতার জটিল মাত্রা খুঁজতে গিয়ে নতুন পথের সন্ধান দিয়েছেন আহসান হাবীব। প্রত্যক্ষ করেছেন সংকটের আবর্তে মানুষের জীবনযাত্রা। সমকালের ধ্বনি তাকে প্রতিনিয়ত বিচলিত করেছে। দু’চোখে তীব্র আকাক্সক্ষা জাগিয়ে রেখে তিনি সব আশাবাদ শব্দে শব্দে উচ্চারণ করেছেন-

‘বিগত দিনের মৃত্যু আজো দেখি বহ্নিমান
আমাদের ক্ষুব্ধ চেতনায়,
অসংখ্য মমীর কান্না আমাদের মনের গুহায়।
যত রক্ত ঝরেছে মাটিতে
চিহ্ন তার রয়ে গেছে আমাদের ক্লান্ত করোটিতে।
(কয়েদি- শ্রেষ্ঠ কবিতা)

সমকাল ও সমকালীন জীবন ব্যবস্থার মধ্যে তিনি গভীর অন্তর্দৃষ্টিতে নিজের চৈতন্যেকে আলোড়িত করেছেন। জীবনের সকল সংকটে তিনি নিজেকে খুঁজে নিতে চেষ্টা করেছেন। তাইতো অস্থির চিত্তে উচ্চারণ করেছেন-

‘আমারতো কোথাও না কোথাও যেতে হবে।
পথ না পেলেই পথ ছেড়ে দেবো?
এই দাপাদাপি
এই অস্থিরতা সার হবে?
আমি কি কোথাও পৌঁছবার মতো আলো
পাবো না জীবনে?’
(আমারতো কোথাও না কোথাও যেতে হবে- শ্রেষ্ঠ কবিতা)

কবিতায় জীবনবোধ, নৈরাশ্য, বিষণœতা, সময়কে অতিক্রম করে সমাজের চলমান জীবনযাত্রার সঙ্গে নিজেকে জড়িয়েছেন গভীর অনুভবে। পথ চলার গভীর প্রত্যয়ে জীবনকে গড়ে নিতে চেয়েছেন নতুন সমাজ জীবনে মানুষের জীবনবোধে। ইতিহাস, সময়চেতনা, জীবনের মগ্নতায় কবি সমকালীন জীবনকে অবলম্বন করে শাশ্বত পথের সন্ধানে ধাবিত হয়েছেন। শ্রেষ্ঠ কবিতা গ্রন্থের ‘আবহমান’ কবিতায় খালেক নিকিরের জীবনযাত্রার মধ্য দিয়ে মানুষের বহমান জীবন ব্যবস্থায় এক স্বপ্ন রচনা করেছেন দীর্ঘ জীবনের গতিশীল চিত্রকল্পে ভাষার ব্যাঞ্জনায় তুলে এনেছেন দীর্ঘ এক কবিতায়।

‘রোদ বৃষ্টিতে মাখামাখি আকাশের নিচে সন্ধ্যা নামে
এক সময় রাত নামে
স্বপ আরো গভীর হয়ে যায় চাঁদ এবং নক্ষত্রের ভেজা গায়ে
রাত বাড়তে থাকে।
হাতের মুঠোয় একটি মৃদু টংকার, স্বপ্নময়
খালেক নিকিরের চেতনা জুড়ে
সেই একই স্বপ্ন স্রোত অনবরত অবিকল
ঘুঘু কাঁঠালপাতা নিম কিংবা নিশিন্দা
এ রকম কোনো স্বপ্ন
আপাতত খালেক নিকিরের নেই
না-ঘুমে না জাগরণে।
(আবহমান- শ্রেষ্ঠ কবিতা)

আহসান হাবীব জীবনবোধ, স্বদেশ সংলগ্নতায় স্নাত হয়ে কবিতার যাত্রাপথে বহমান সময়কে ধারণ করে নিজের শক্তিমত্তাকে জানান দিতে সাহসী উচ্চারণে নিজের চৈতন্য জুড়ে নতুন পথ সঞ্চারের শেকড়স্পর্শী চেতনায় শব্দ ভাষায় বলেছেন, দিয়েছেন আগমনী সংবাদ। যেমন-

‘আসমানের তারা সাক্ষী
সাক্ষী এই জমিনের ফুল, এই
নিশিরাইত বাঁশবাগানের বিস্তর জোনাকি সাক্ষী
পুবের পুকুর, তার ঝাঁকড়া ডুমুরের ডালে স্থির দৃষ্টি
মাছরাঙা আমাকে চেনে
আমি কোন অভ্যাগত নই
খোদার কসম আমি ভীনদেশী পথিক নই
আমি কোন আগন্তুক নই।
আমি কোন আগন্তুক নই, আমি
ছিলাম এখানে, আমি স্বাপ্নিক নিয়মে
এখানে থাকি আর
্এখানে থাকার নাম, সর্বত্রই থাকা-
সারদেশে।
(আমি কোন আগন্তুক নই- শ্রেষ্ঠ কবিতা)

জীবনযাপনের তীব্র বেদনাবোধ, মৃত্যু চিন্তা, মানুষের মৃত্যু নিয়ে নিজস্ব চিন্তার অভিঘাত মানুষকে যেভাবে বিচলিত করে তেমনিভাবে কবিকে করে তোলে বেদনাবোধে আক্রান্ত। জীবনের মাঝে কবি খুঁজতে থাকেন মৃত্যুর অমোঘ প্রকাশকে। মৃত্যুর কল্লোলিত ধারা কবিকে আঘাত করে, বেদনাহত করে তোলে অনুভবে। যেমন-

‘কোন কোন মৃত্যু এসে রেখে যায় নতুন স্বাক্ষর
এই মৃত্যু রেখে যায় জীবনের মুক্ত পরিসর
ক্ষীণ জীবনের এই মৃত্যু করে কুণ্ঠাহীন।
এই মৃত্যু নিয়ে আসে অকুতোভয়ের সেই দিন
ভীরু চিত্তে।
ভালোবেসে এই মৃত্যু খড়গাঘাত করে
স্বপ্ন আর পলায়নে জীবনের নির্লজ্জ প্রহরে।
(মৃত্যু- আহসান হাবীব)

কাব্য জীবনের শেষের দিকে কবি একটি কবিতায় কবি জীবনযাপনের সঙ্গে মৃত্যুর অমোঘ সত্যকে উচ্চারণ করেছেন নিজস্ব চিন্তার প্রকাশভঙ্গিতে। কবি শক্তি চটোপাধ্যায়ের শেষ দিকের কবিতা ‘যেতে পারি, কিন্তু কেন যাবো?’ কবিতার মতো কবি আহসান হাবীব লিখেছিলেন শেষ কাব্যগ্রন্থের শেষ কবিতা ‘যাবো না’। কবি প্রকৃতিকে সাক্ষী করে নিজের ক্লান্তিকালের জীবন বৃওের মায়াবী হাতছানিতে প্রতীকী ভাবনায় জীবনের নির্যাস দান করেছেন। জীবনের প্রান্তে এসে নিজের কবিতার কাছে, দেশের কাছে, এমন সমর্পণ এক মহান কবির সংবেদন, বেদনাবোধ, অন্তর্জ্বালা প্রকাশ পেয়েছে। নিজের আত্মপক্ষের গøানি থেকে তিনি কাব্য চৈতন্য হয়ে উঠেন আধুনিক মননে ঋদ্ধ কবি। সর্বশেষ কাব্য ‘বিদীর্ণ দর্পণে মুখ’ কাব্যের সর্বশেষ কবিতায় আত্মজিজ্ঞাসার পদধ্বনি শুনতে পাই।

যেমন- ‘শৈশবে এই পাথর খণ্ডে বসে
আমি সূর্যাস্ত দেখতাম
রাখাল এ পথে ফিরতো
আমার দিকে তাকিয়ে একটু হাসতো
এই বিকেল আমার সঙ্গে যাবে না
তবে কেন যাবো?
কেন যাবো স্বদেশ ছেড়ে বিদেশ বিভুঁইয়ে
অন্ধকারে?
প্রস্তুতি বড় কষ্টের।
আমার কোন প্রস্তুতি নেই?
(যাবো না- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ)

মানুষের মাঝে প্রেমও প্রকৃতির নিবিড় সম্পর্ক প্রকৃতির মাঝে মানুষের মনে ভালোবাসার কল্পনার নতুন স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করে। ভালোবাসার চরম পরিণতিতে হৃদয়ের প্রত্যাখ্যানে প্রেমিক মনে বাসা বাঁধতে পারে প্রত্যাখ্যানের যন্ত্রণা, নারীর ভালোবাসায় নতজানু নারীর প্রেমে জাগে বিরহ কাতরতা। অন্যদিকে পূর্ণতা পায় প্রেম দৃপ্ত শপথে। কিন্তু কবির দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রেম অনায়াসেই দু’জনার আনন্দ ভাগ করে নেয়ার চিন্তায় রূপলাভ করে নতুন শপথে। কবি উচ্চারণ করেন নির্মোহ চিত্তে বেশ কটি পাঠকপ্রিয় প্রেমের কবিতায়। যেমন- পরিস্থিতি, হায় মালিনী, যে পায় সে পায়, তুমি, দোতালার ল্যান্ডিং মুখোমুখি ফ্ল্যাট একজন সিঁড়িতে, অন্যজন দরজায়, তুমি এলে, না এলে প্রভৃতি। যেমন-

‘তুমি ভালো না বাসলে বুঝতে পারি ভালোবাসা আছে
তুমি ভালো না বাসলে বুঝতে পারি ভালোবাসা জীবনের নাম
ভালোবাসা ভালোবাসা বলে
দাঁড়ালে দু’হাত পেতে
ফিরিয়ে দিলেই
বুঝতে পারি ভালোবাসা আছে।
না না বলে ফেরালেই
বুঝতে পারি ফিরে যাওয়া যায় না কখনো।’
(যে পায় সে পায়- প্রেমের কবিতা)

বাঙালি মানসের ভালোবাসার জীবনের অন্তর্লীন স্বপ্নের যাপিত জীবন আহসান হাবীবের কবিতায় এক বিশেষ মাত্রায় ধরা দিয়েছে। তার প্রেমের প্রকাশভঙ্গি সমকালীন অন্য কবিদের চাইতে স্বতন্ত্র চেতনায় ও ভিন্ন স্বাদে প্রকাশ পায়। তাইতো সার্থক রূপ লাভ করে তার কবিতা পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করেছে। যুগ সঞ্চারী আধুনিক মননের কবি হিসাবে তিনি যোগ করেছেন কবিতায় নতুন মাত্রা। তাইতো জীবন কর্মের মধ্য দিয়ে আহসান হাবীব আধুনিকতার অনিবার্য আসনে নিজের স্থান করে নেন। সেই অর্থে বলা যায় আহসান হাবীব প্রকৃত প্রস্তাবে আমাদের প্রকৃত আধুনিক কবি নন শুধু- উওর আধুনিকতারও তিনিই পথিকৃৎ। বাংলা সাহিত্যো অসংখ্য পুরস্কার ও মানুষের ভালোবাসায় ধন্য কবি আহসান হাবীব ১৯৮৫ সালের ১০ জুলাই ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

রুদ্র আমিন

মোঃ আমিনুল ইসলাম রুদ্র, জন্ম : ১৪ জানুয়ারি, ১৯৮১। ডাক নাম রুদ্র আমিন (Rudra Amin)। একজন বাংলাদেশ কবি, লেখক ও সাংবাদিক। নক্ষত্র আয়োজিত সৃজনশীল প্রতিযোগিতা-২০১৬ কবিতা বিভাগে তিনি পুরস্কার গ্রহণ করেন। জন্ম ও শিক্ষাজীবন মোঃ আমিনুল ইসলাম রুদ্র ১৯৮১ সালের ১৪ জানুয়ারি মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর উপজেলার ফুলহারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মোঃ আব্দুল হাই ও মাতা আমেনা বেগম। পরিবারে তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি বড়। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা জীবন কেটেছে খাগড়াছড়ি এবং বগুড়া সদর উপজেলায়। বগুড়ার আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন পাবলিক স্কুল ও কলেজ থেকে এসএসসি ও মানিকগঞ্জের দেবেন্দ্র কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর তিনি ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি থেকে ডিপ্লোমা ইন কম্পিউটার গ্রাফিক্স ডিজাইন কোর্স সম্পন্ন করেন। কর্মজীবন মূল পেশা থেকে দূরে সরে গিয়ে তিনি লেখালেখি এবং সাংবাদিকতায় জড়িয়ে পড়েন। তিনি প্রায় সব ধরনের গণমাধ্যমে কাজ করেছেন। কাজ করেছেন দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকায়। বর্তমানে তিনি জাতীয় দৈনিক আলোকিত প্রতিদিন এর ষ্টাফ রিপোর্টার ও অনলাইন নিউজপোর্টাল নববার্তা.কম এর প্রকাশক ও সম্পাদক হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি উইকিপিডিয়াকে ভালোবেসে উইকিপিডিয়ায় অবদানকারী হিসেবে উইকিপিডিয়া অধ্যয়নরত আছেন। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ : যোগসূত্রের যন্ত্রণা (২০১৫); আমি ও আমার কবিতা (২০১৬); বিমূর্ত ভালোবাসা (২০১৮)। প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ : আবিরের লালজামা (২০১৭)।

https://rudraamin.com

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।