আপনি দেখছেন "গুণীজন"

বরেণ্য ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ

একজন মহান শিক্ষক; স্বপ্ন দেখাতে পারেন হাজারো শিক্ষার্থীর জীবনে। গড়ে উঠার সময়টাতে যিনি সবার সামনে থাকেন আলোর মশাল নিয়ে। মানুষ গড়ার এমনই একজন কারিগর আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। ১৯৩৯ সালের ২৫ জুলাই কলকাতার পার্ক সার্কাসে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। পৈতৃক নিবাস বাগেরহাট জেলার কচুয়া উপজেলার অন্তর্গত কামারগাতি গ্রামে। ছেলেবেলা থেকেই তিনি শিক্ষক হবার স্বপ্ন লালন করতেন।

পাবনা জিলা স্কুল থেকে ১৯৫৫ সালে মাধ্যমিকের পাট চুকিয়ে বাগেরহাটের প্রফুল্লচন্দ্র কলেজে ভর্তি হন। এরপর উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই তিনি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ১৯৬০ সালেই তাঁর শিক্ষকতা জীবনের শুরু হয়। বাবা আযীমউদ্দিন আহমদ ছিলেন … বিস্তারিত পড়ুন

ভাষা সংগ্রামী ও স্বাধীন বাংলার প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম স্থপতি বঙ্গবন্ধুর আস্থাভাজন সহকর্মী স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ভাষা সংগ্রামী তাজউদ্দীন আহমদ ২৩ জুলাই ১৯২৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন। আজ তাঁর ৯৫তম জন্মজয়ন্তি। বেঁচে থাকলে আজ তাঁর বয়স হতো ৯৫ বছর। কিন্তু তিনি বেঁচে নেই। যেমন বেঁচে নেই বঙ্গবন্ধু, গান্ধী, ইন্দিরা গান্ধী, মার্টিন লুথার কিং। তারা সবাই গুলিবিদ্ধ হয়ে মরেছেন। গুলি ছুড়েছে যে খুনিরা তারা প্রগতির ধারা ও সভ্যতাকেও স্তব্ধ করতে চেয়েছে।

তাজউদ্দীন আহমদ (জুলাই ২৩, ১৯২৫ – নভেম্বর ৩, ১৯৭৫ ) বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ও স্বাধীনতা সংগ্রামের জাতীয় চার নেতার অন্যতম নেতা। তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব সাফল্যের সাথে … বিস্তারিত পড়ুন

বাঙালি লেখক ও শিক্ষাবিদ অমূল্যকুমার দাশগুপ্ত

বাঙালি লেখক ও শিক্ষাবিদ অমূল্যকুমার দাশগুপ্ত ১৯১১ সালের ১৫ অক্টোবর বরিশাল জেলার নান্দিকাঠি থানার কুলকাঠি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। যদিও হাল আমলের পাঠকের কাছে অমূল্যকুমার দাশগুপ্ত খুব একটা পরিচিত নাম নয়। বাজার চলতি সাহিত্যের ইতিহাসের বইপত্রেও তাঁর প্রবেশাধিকার নেই বললেই চলে। তবে ‘সম্বুদ্ধ’ নামে তাকে অনেকেই চেনে। এ নামেই লেখালেখি করতেন তিনি।

বাংলা সাহিত্যে হাস্যরসের ধারা জাতীয় গ্রন্থে সম্বুদ্ধ ও তাঁর রচনা সম্বন্ধে কিছু বাক্য ব্যয় করা হয়েছে। তিনি মূলত শিশুদের জন্যই লিখতেন। তার জীবিতকালে এবং মৃত্যুর বেশকিছু বছর পরও অনেক শিশুর কাছে ছিলেন প্রিয় লেখক। শিকার কাহিনী লেখায় পারদর্শী এই লেখক ১৯৭৩ সালের ৫ই মার্চ তিনি মৃত্যুৃবরণ করেন।

এই জ্ঞানী … বিস্তারিত পড়ুন

মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত

কে বাংলা সাহিত্যকে প্রথম নাটক ও প্রহসনের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন? কে প্রথম বাংলায় চতুর্দশপদী কবিতা রচনা করে বাংলা কবিতার এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছেন? কে চিরাচরিত বাংলা সাহিত্যে নবজাগরণের জনক? এসব প্রশ্নের উত্তরে একজনের নামই আসে- মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত ছিলেন বাংলা সাহিত্যের এক প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্ব। তিনি আজও হয়ে আছেন এই সাহিত্যকে আলো করে থাকা এক অনন্য নক্ষত্র। স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে তিনি এ সাহিত্যে এনেছিলেন ভিন্ন চিন্তা, কল্পনা ও সৃষ্টির এক সুবিশাল ঢেউ। অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তন বাংলা কবিতার জগতে চিরকালই এক মাইলফলক হয়ে থাকবে। বাংলায় নাটক ও প্রহসন লেখার সূচনা করে তিনি এই সাহিত্যকে সবসময়ের জন্য তার কাছে … বিস্তারিত পড়ুন

কবি আহসান হাবীব

কবি আহসান হাবীব

আধুনিকতা ও জীবনবোধের কবি আহসান হাবীব এর ১০৩তম জন্মবার্ষিকী। ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি কবি আহসান হাবীব পিরোজপুরের (সাবেক বরিশাল জেলার) সংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম হামিজুদ্দীন হাওলাদার এবং মাতা জমিলা খাতুন। অর্থনৈতিকভাবে অস্বচ্ছল পিতা-মাতার দশজন সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন প্রথম সন্তান। সাহিত্যের অনুকূল পরিবেশ নিয়ে পিরোজপুর গভর্নমেন্ট স্কুল থেকে ১৯৩৫ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর তিনি ভর্তি হন বরিশালের বিখ্যাত বিএম কলেজে। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে কলেজের পড়াশোনার পাঠ শেষ পর্যন্ত অসমাপ্ত রাখতে হয়। বিএম কলেজে দেড় বছর পড়ার পর ১৯৩৬ সালের শেষার্ধে কাজের খোঁজে তিনি রাজধানী কলকাতায় পাড়ি জমান।

এভাবেই কবি আহসান হাবীবের বরিশাল থেকে তৎকালীন রাজধানী কলকাতায় … বিস্তারিত পড়ুন

শিল্পী আব্বাসউদ্দীন আহমদ বাংলার লোক সঙ্গীতের এক প্রবাদ পুরুষ

আব্বাসউদ্দীন আহমদ

বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী আব্বাসউদ্দীন আহমদ পশ্চিমবঙ্গের কুচবিহার জেলার তুফানগঞ্জ মহকুমার বলরামপুর গ্রামে ১৯০১ সালের ২৭ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা জাফর আলী আহমদ ছিলেন তুফানগঞ্জ মহকুমা আদালতের উকিল। বলরামপুর স্কুলে আব্বাসউদ্দীনের শিক্ষা জীবন শুরু হয়। ১৯১৯ সালে তুফানগঞ্জ স্কুল থেকে তিনি প্রবেশিকা এবং ১৯২১ সালে কুচবিহার কলেজ থেকে আইএ পাস করেন। এখান থেকে বিএ পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হয়ে তিনি সংগীত জগতে প্রবেশ করেন।

আব্বাস উদ্দীন আহমদ শৈশব কাল থেকেই তীক্ষ্ণ বুদ্ধি ও মেধা সম্পন্ন ছিলেন। লেখাপাড়ায় তিনি খুবই ভাল ছাত্র ছিলেন। তিনি ছিলেন শিক্ষকদের খুব আদরের। মাটির পৃথিবীর চিরন্তন ঐকতান তার কন্ঠে বাসা বেধেছে শৈশব কাল থেকেই। তিনি একজন ভাল শিল্পী ছিলেন শিশুকাল … বিস্তারিত পড়ুন

শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন

শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন

চিত্রশিল্প বিষয়ক শিক্ষার প্রচার- প্রসারে জয়নুল আবেদিনের পরিশ্রম ও অবদান অতুলনীয়। চিত্রশিল্পে তাঁর অসামান্য অবদানের জন্য তিনি ‘শিল্পাচার্য’ অভিধা লাভ করেন। ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দের ২৯ ডিসেম্বর তৎকালীন ময়মনসিংহ জেলার কিশোরগঞ্জ মহকুমার কেন্দুয়ায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবার নাম তমিজউদ্দিন আহমদ। তিনি ছিলেন একজন পুলিশ কর্মকর্তা। তার মায়ের নাম জয়নাবুন্নেছা। তার নয় ভাইবোনের মধ্যে জয়নুল আবেদিন ছিলেন সবার বড়। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছবি আঁকতে পছন্দ করতেন। তার উল্লেখযোগ্য চিত্রকর্মের মধ্যে রয়েছে দুর্ভিক্ষ চিত্রমালা, সংগ্রাম, সাঁওতাল রমণী, ঝড়, বিদ্রোহী, কাক, সাধারণ নারী।

১৯৪৮ সালে ঢাকায় চারুকলা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা তার জীবনের এক মহান কীর্তি। শুধু ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা নয়, শিল্প শিক্ষার একটি উন্নত প্রতিষ্ঠান হিসেবে একে … বিস্তারিত পড়ুন

শিশু সাহিত্যিক ও সাংবাদিক গোলাম রহমান

শিশু সাহিত্যিক ও সাংবাদিক গোলাম রহমান ২৮শে নভেম্বর ১৯৩১ সালে কলকাতায় জন্ম গ্রহন করেন। শিশু সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি ১৯৬৯ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে শিশু সাহিত্য রচনায় যাঁরা বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন তাঁদের মধ্যে গোলাম রহমানের নাম উল্লেখযোগ্য। বড়দের জন্যও তিনি লেখালেখি করেছেন। গোলাম রহমান ১৯৪৭ সালে কলকাতার মডার্ন স্কুল থেকে এন্ট্রান্স পাস করেন এবং ১৯৪৯ সালে কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ আইন কলেজে, ল ভর্তি হলেও পড়াশোনা অসমাপ্ত রেখে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে (বাংলাদেশ) চলে আসেন। বাংলাদেশে এসে তিনি জগন্নাথ কলেজে ভর্তি হলেও শিক্ষা সমাপ্ত করতে পারেন নি।

ঢাকা থেকে প্রকাশিত সে সময়কার প্রায় সব পত্রিকাতেই তিনি কখনো না … বিস্তারিত পড়ুন

নারী মুক্তি ও মানবাধিকার আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা কবি সুফিয়া কামাল

সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত নবাব পরিবারে। তেমন কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা লাভ করেননি। তার মায়ের নাম নবাবজাদী সৈয়দা সাবেরা খাতুন এবং তার বাবা সৈয়দ আবদুল বারি ছিলেন উকিল। যে সময়ে সুফিয়া কামালের জন্ম তখন বাঙ্গালি মুসলিম নারীদের কাটাতে হত গৃহবন্দি জীবন। স্কুল কলেজে পড়ার কোনো সুযোগ তাদের ছিলো না। পরিবারে বাংলা ভাষার প্রবেশ এক রকম নিষিদ্ধ ছিল। ঐ বিরুদ্ধ পরিবেশে সুফিয়া কামাল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ পাননি। তিনি পারিবারিক নানা উত্থান পতনের মধ্যে স্বশিক্ষায় শিক্ষিত হয়েছেন।

মাত্র সাত বছর বয়সে সুফিয়া কামাল তার বাবাকে হারান। মাত্র বারো বছর বয়সে অর্থাৎ ১৯২৩ সালে মামাতো ভাই সৈয়দ নেহাল … বিস্তারিত পড়ুন

প্রথিতযশা ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও প্রাবন্ধিক মীর মশাররফ হোসেন

বহু প্রতিভার অধিকারী, মানব দরদী, সমাজ হিতৈষী মীর মশাররফ হোসেন ১৮৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার নিকটবর্তী লাহিনী পাড়া গ্রামে বিখ্যাত সৈয়দ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম ছিল সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন। তার সাহিত্যিক জীবন ছিল নির্লিপ্ত। রাজনৈতিক, সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না তিনি প্রত্যক্ষভাবে। কলমের যুদ্ধে অংশ নেন তিনি নির্ভীক সৈনিকের মত।

শৈশবে মীর মশাররফ হোসেন প্রথমে গ্রাম্য পাঠশালায় শিক্ষা গ্রহণ করেন, পরে কিছুদিন তিনি কুষ্টিয়া ইংরেজি স্কুলে এবং একবছর পদমদীর নবাব স্কুলে লেখাপড়া করেন। ফরিদপুরের পদমদী স্কুলে লেখাপড়ার সময় তিনি ১৮৬৪ খ্রিষ্টাব্দে কৃষ্ণনগর কলেজিয়েট স্কুলে প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি হন। সম্ভবত: এর বেশি লেখাপড়ার সুযোগ তার ঘটেনি। … বিস্তারিত পড়ুন