চিত্রশিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদ

গুণীজন

চিত্রশিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদ ১৯৫০ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করলেও তার আদি নিবাস নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার আলগী গ্রামে।পিতা তায়েবউদ্দীন প্রধান ছিলেন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা, মাতা সাইফুন্নেসা আহমেদ ছিলেন গৃহীনি। তায়েবউদ্দীন এবং সাইফুন্নেসার সংসারে শাহাবুদ্দিন ছিলেন জ্যেষ্ঠ সন্তান। স্ত্রী আনা ইসলাম, কথা সাহিত্য ও শিল্প সমালোচক।

ধূসর, শুভ্র ক্যানভাসে ব্রাশের একাকী পথচলার মধ্যেই ফুটে উঠে নিরেট গল্প। তাতে থাকে মুগ্ধতা, মগ্নতা, মাদকতাও। ব্রাশের শৈলীতে গল্পের মোড় হয় পরিবর্তিত, পরিবর্ধিত। এ অদ্ভুত এক গল্পকথক, যার গল্প কখনো যেন শেষ হয় না। তার চিত্রকর্মগুলো সাধারণের মধ্যে অসাধারণ, অনন্য, অনবদ্য। প্রতিটি চিত্রকর্ম আনে মুগ্ধতা। দেখে মনে হয় এমনিতেই কিছু রঙ যেন চোখের সামনে খেলা করছে, খেলতে খেলতে্‌ই রঙগুলো যেন এদিক ওদিক ছোটাছুটি করতে করতে অনায়াসে এক-একটি বিশাল চিত্রকর্ম তৈরি করেছে।

শাহাবুদ্দিন-আনা’র সংসার জীবনে আছে দুই মেয়ে – চিত্র ও চর্যা। তারাও শিল্প চর্চায় নিজেদের নিয়োজিত রেখেছেন। মায়ের অনুপ্রেরণায় শিল্পী হয়ে ওঠার প্রাথমিক পর্যায়ে, কখন এবং কীভাবে আঁকাআঁকির সঙ্গে সম্পৃক্ত হলেন, কীভাবে আর্ট কলেজে ভর্তি হলেন এ সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করে বলেছেন, ‘এই যে আমার হাসি, হাসলে গালে টোল পড়ছে, এটা জন্মগত নয়। লেখাপড়া বাদ দিয়ে ছবি আঁকতাম বলে বাবা আমাকে মেরেছিলেন। সেটা ছোটবেলার কথা।

নিজের অজান্তেই বিভিন্ন বইয়ে যেসব ছবি থাকত সেসব কপি করতাম। এর মধ্যে ছিল নজরুল ইসলাম, রবীন্দ্রনাথ, সুভাষ বসুর ছবি। সে-সময় এত ছবি ছিলও না। আমার ভাইয়েরা ওপরের ক্লাসে পড়ত, আমি তাদের বইগুলো দেখতাম। সেখান থেকে ছবি নকল করতাম। সেভাবেই আমার শুরু। আমার অন্য ভাইয়েরা যারা পড়াশোনা করত, তারা আমার ছবি আঁকার ব্যাপারটা নিয়ে বাবার কাছে অভিযোগ করত। লেখাপড়া বাদ দিয়ে ছবি আঁকার কারণে বাবা আমাকে মারেন। আমার মুখের ডান পাশটা ফুলে যায়। এরপর বাবা অবশ্য আর কোনোদিন মারেননি। মার খেতে খেতে, বাধা পেতে পেতে পরে এমন একটা পর্যায়ে আসি, তখন পরিবার থেকেই আমাকে প্রাথমিক প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ব্যবস্থা করা হলো।

নানা পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন তিনি। চারু ও কারুকলায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশ-বিদেশে অনেক পুরস্কার পান শিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদ। (১) রাষ্ট্রপতি স্বর্ণপদক ১৯৬৮ শ্রেষ্ঠ শিশু শিল্পী(২) প্রধানমন্ত্রীর স্বর্ণপদক ১৯৭৩(৩) বাংলা একাডেমীর স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার ১৯৭৪(৪) ১ম পুরস্কার ১৯৭৫ প্যারিসে অধ্যয়নরত শিল্পীদের আন্তর্জাতিক চিত্র প্রদর্শনী(৫) ১ম পুরস্কার ১৯৭৯ প্যারিসে আয়োজিত ৩১টি দেশের শিল্পীদের আন্তর্জাতিক চিত্র প্রদর্শনী(৬) ১ম পুরস্কার ১৯৮০ ইউনেস্কো আয়োজিত আন্তর্জাতিক চিত্র প্রদর্শনী(৭) শ্রেষ্ঠ পুরস্কার ১৯৮২ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর নবীন শিল্পী চারুকলা প্রদর্শনী(৮) স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার ২০০০ চারুকলা ক্ষেত্রে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ।

রুদ্র আমিন

মোঃ আমিনুল ইসলাম রুদ্র, জন্ম : ১৪ জানুয়ারি, ১৯৮১। ডাক নাম রুদ্র আমিন (Rudra Amin)। একজন বাংলাদেশ কবি, লেখক ও সাংবাদিক। নক্ষত্র আয়োজিত সৃজনশীল প্রতিযোগিতা-২০১৬ কবিতা বিভাগে তিনি পুরস্কার গ্রহণ করেন। জন্ম ও শিক্ষাজীবন মোঃ আমিনুল ইসলাম রুদ্র ১৯৮১ সালের ১৪ জানুয়ারি মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর উপজেলার ফুলহারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মোঃ আব্দুল হাই ও মাতা আমেনা বেগম। পরিবারে তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি বড়। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা জীবন কেটেছে খাগড়াছড়ি এবং বগুড়া সদর উপজেলায়। বগুড়ার আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন পাবলিক স্কুল ও কলেজ থেকে এসএসসি ও মানিকগঞ্জের দেবেন্দ্র কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর তিনি ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি থেকে ডিপ্লোমা ইন কম্পিউটার গ্রাফিক্স ডিজাইন কোর্স সম্পন্ন করেন। কর্মজীবন মূল পেশা থেকে দূরে সরে গিয়ে তিনি লেখালেখি এবং সাংবাদিকতায় জড়িয়ে পড়েন। তিনি প্রায় সব ধরনের গণমাধ্যমে কাজ করেছেন। কাজ করেছেন দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকায়। বর্তমানে তিনি জাতীয় দৈনিক আলোকিত প্রতিদিন এর ষ্টাফ রিপোর্টার ও অনলাইন নিউজপোর্টাল নববার্তা.কম এর প্রকাশক ও সম্পাদক হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি উইকিপিডিয়াকে ভালোবেসে উইকিপিডিয়ায় অবদানকারী হিসেবে উইকিপিডিয়া অধ্যয়নরত আছেন। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ : যোগসূত্রের যন্ত্রণা (২০১৫); আমি ও আমার কবিতা (২০১৬); বিমূর্ত ভালোবাসা (২০১৮)। প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ : আবিরের লালজামা (২০১৭)।

https://rudraamin.com

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।