জয় বাংলা স্লোগান কারো পৈত্তিক সম্পত্তি নয়

কলাম

জয় বাংলা, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ, আল্লাহু আকবার এই স্লোগানগুলো কি কারো পৈত্তিক সম্পত্তি? সময়ের পরিক্রমায় এই প্রতিটি স্লোগান ব্যবহৃত হয়ে আসছে যুগযুগ ধরে। জয় বাংলা বলে কারও উপর হামলা করলেই প্রমান হয় যে সেই হামলাকারী আওয়ামী লীগের। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ বলে কারও উপর হামলা করলেও ঠিক তাই আর আল্লাহু আকবর বলে হামলা করলেও ফলাফল সেই একটাই বলি। আসলে এই সকল নাম বা স্লোগান কি অন্যান্যরা উচ্চারণ করতে পারে না?

যে বা যারা শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের উপর হামলা চালিয়েছে তাদের রাজনৈতিক দল নির্বাচন নিয়ে আমার সংশয় আছে। তারা যে আওয়ামী লীগ নয় সেটাও বলতে পারছি না, আবার আওয়ামী লীগের সেটাও বলতে পারছি না । এমন কি তারা কোন দলের সেটাও দূর থেকে আপনি আমি কেউ বলতে পারছি না। ঘটনা একটা ঘটেছে সেটাই সত্য ঘটনা বা রটনা। কে ভালো সেটাও চেনা যায় না কে মন্দ সেটাও বুঝা যায় না। সবাই স্বার্থের লক্ষ্যে উড়ে বেড়াচ্ছে।

যারা এমনটি ভাবেন তারা যে কোন স্বর্গ বসবাস করেন সেটাই ভেবে পাই না। পরিচিত কারো নাম বলে তাহলে এভাবেই দেশের মানুষ অনেক কিছু করছেন মনে হয়। আমরা এমন বাঙালি জয় বাংলা ধবনি কোথা থেকে এলো কে তার সৃষ্টি করল সেটা না জেনেই আমরা মনে করি জয় বাংলা আওয়ামী লীগের দেয়া পৈত্তিক সম্পত্তি। শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে একদল সন্ত্রাসী জয় বাংলা ধবণী উচ্চারণ করে শিক্ষক পেটালেন আর সেটা হয়ে গেলো আওয়ামী লীগের।

জয় বাংলা আওয়ামী লীগের দেয়া কোন পৈত্তিক সম্পত্তি নয়। জয় বাংলা স্লোগান ছিল মুক্তিযুদ্ধকালীন সকল বাঙালির প্রেরণার উৎস। যুদ্ধ জয়ের পর অবধারিত ভাবে মুক্তিযোদ্ধারা চিৎকার করে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে জয় উদযাপন করত। আর যদি এর উদ্ভব কিংবা কিভাবে এলো বা কিভাবে উৎপত্তি হলো কম হোক আর বেশি হোক কিছু একটা তো অবশ্যই আছে।

১৫ই সেপ্টেম্বর ১৯৬৯ এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আফতাব আহমেদ ও চিশতী হেলালুর রহমান “জয় বাংলা” স্লোগানটি সর্বপ্রথম উচ্চারন করেন। আর স্বাধীন বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলনে ‘জয় বাংলা’ সহ সকল স্লোগান নির্ধারণ এবং বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণে “এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম” বাক্যসমূহের সংযোজনের কৃতিত্ব ‘নিউক্লিয়াসে’র। এসব সিদ্ধান্ত গ্রহণে সিরাজুল আলম খানের ভুমিকা ছিল মুখ্য।

বাঙালির ‘জাতীয় রাষ্ট্র’ বাংলাদেশ গঠনের লক্ষে ১৯৬২ সনে গোপন সংগঠন ‘নিউক্লিয়াস’ গঠন করেন সিরাজুল আলম খান। নিউক্লিয়াস ‘স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ’ নমেও পরিচিত। এছাড়াও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ গঠন এবং ‘সিপাহী জনতার গণ-অভ্যুত্থান’ এর নেপথ্য পরিকল্পনাকারী ছিলেন সিরাজুল আলম খান।

১৯৬২-’৭১ পর্যন্ত ছাত্র আন্দোলন, ৬-দফা আন্দোলন, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার আন্দোলন, ১১-দফা আন্দোলন পরিকল্পনা ও কৌশল প্রণয়ন করে এই ‘নিউক্লিয়াস’। আন্দোলনের এক পর্যযে গড়ে তোলা হয় ‘নিউক্লিয়াসে’র রাজনৈতিক উইং বি.এল.এফ এবং সামরিক ‘জয় বাংলা বাহিনী’। ২রা মার্চ বাংলাদেশর প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সঙ্গীত নির্ধারণসহ ৩রা মার্চ ‘স্বাধীন বাংলার ইশতেহার’ ঘোষণার পরিকল্পনাও ‘নিউক্লিয়াসে’র।

রুদ্র আমিন

মোঃ আমিনুল ইসলাম রুদ্র, জন্ম : ১৪ জানুয়ারি, ১৯৮১। ডাক নাম রুদ্র আমিন (Rudra Amin)। একজন বাংলাদেশ কবি, লেখক ও সাংবাদিক। নক্ষত্র আয়োজিত সৃজনশীল প্রতিযোগিতা-২০১৬ কবিতা বিভাগে তিনি পুরস্কার গ্রহণ করেন। জন্ম ও শিক্ষাজীবন মোঃ আমিনুল ইসলাম রুদ্র ১৯৮১ সালের ১৪ জানুয়ারি মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর উপজেলার ফুলহারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মোঃ আব্দুল হাই ও মাতা আমেনা বেগম। পরিবারে তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি বড়। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা জীবন কেটেছে খাগড়াছড়ি এবং বগুড়া সদর উপজেলায়। বগুড়ার আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন পাবলিক স্কুল ও কলেজ থেকে এসএসসি ও মানিকগঞ্জের দেবেন্দ্র কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর তিনি ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি থেকে ডিপ্লোমা ইন কম্পিউটার গ্রাফিক্স ডিজাইন কোর্স সম্পন্ন করেন। কর্মজীবন মূল পেশা থেকে দূরে সরে গিয়ে তিনি লেখালেখি এবং সাংবাদিকতায় জড়িয়ে পড়েন। তিনি প্রায় সব ধরনের গণমাধ্যমে কাজ করেছেন। কাজ করেছেন দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকায়। বর্তমানে তিনি জাতীয় দৈনিক আলোকিত প্রতিদিন এর ষ্টাফ রিপোর্টার ও অনলাইন নিউজপোর্টাল নববার্তা.কম এর প্রকাশক ও সম্পাদক হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি উইকিপিডিয়াকে ভালোবেসে উইকিপিডিয়ায় অবদানকারী হিসেবে উইকিপিডিয়া অধ্যয়নরত আছেন। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ : যোগসূত্রের যন্ত্রণা (২০১৫); আমি ও আমার কবিতা (২০১৬); বিমূর্ত ভালোবাসা (২০১৮)। প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ : আবিরের লালজামা (২০১৭)।

https://rudraamin.com

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।