বইমেলায় আসছে কবি ফিরোজ শাহ’র ‘ব্ল্যাকবোর্ডে নুনগাছ’

বই নিউজ

অমর একুশে গ্রন্থমেলার প্রথম দিন থেকেই বেহুলাবাংলা প্রকাশনীর ৪৬৯-৪৭১ নং স্টলে থাকছে কবি ফিরোজ শাহ’র ২য় কাব্যগ্রন্থ ‘ব্ল্যাকবোর্ডে নুনগাছ’। এর আগে ২০১৭ সালে ‍‍‌“উজানে সোনালি মাছ” শিরোনামে কবি’র প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়।

কবিতা সম্পর্কে জানতে চাইলে কবি বলেন, আমি মনে করি, কবিতা একটি ধোঁয়াটে উদ্যান। ধোঁয়ার উদ্যান পার হলেই পাওয়া যায় শ্বাশত প্রশান্তি। তবে সমকালের অনেক কবি শুধু ধোঁয়াই উৎপাদন করেছেন। ফলে পাঠক ধোঁয়ার মধ্যে হাবুডুবু খায়। আধুনিক যন্ত্র সভ্যতার যুগে পাঠককে চিন্তনের বুনন দিয়ে কবিতা পাঠ করতে হয়। কিন্তু তাদের চিন্তার জগৎ দখল করে নিয়েছে ফেসবুক, ইউটিউবসহ অন্যান্য সোশ্যালমিডিয়া। যন্ত্রের ভেতরে ঢুকে উৎপন্ন হচ্ছে কংকালসার চিন্তা। ভেঙে পড়ছে অনুভূতির সজীব মুকুল। একজন বুভুক্ষু পাঠক চিন্তার হাত দিয়ে ধোঁয়া সরিয়ে পৌছে যায় কবিতার অন্তিম গন্তব্যে। পায় কবিতার স্বাদ।

শিল্পের মধ্যে জীবন থাকে, জীবনের অভিজ্ঞতা থাকে- আপনার কী রকম? প্রশ্নের জবাবে কবি বলেন, শিল্পের ভেতরে জীবন থাকে। আবার জীবনের ভেতরেও শিল্প বহমান। মৃত্যু জীবনের শেষ স্টেশনে হতে পারে। কিন্তু শিল্পের নয়। ‘ব্ল্যাকবোর্ডে নুনগাছ’ একটি কবিতায় বলেছিলাম ” ট্রেন স্টেশনে আসে কিন্তু গন্তব্যে পৌছে না”। শিল্পের জন্যও কথাটি সত্যি।

বাংলা কবিতার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলা কবিতার নিয়ে আমার অভিমত অনেকটা এ রকম। জলের শরীরে মরে যাওয়া ঢেউটিও সাহিত্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তীর ছুঁতে পারা ঢেউকে সে সাহায্য করে। ‘ব্ল্যাকবোর্ডে নুনগাছ ‘ গ্রন্থটি নিয়ে আমার কোন মতামত নেই। সেটি পাঠক বিবেচনা করবে। এই বইয়ে দুটি অধ্যায়। ছোট ছোট ৭৮ কবিতা। যার শিরোনাম ‘বৃষ্টির ভাস্কর্য ‘। এবং তুলনামূলক ২৬ টি বড় কবিতা। যার শিরোনাম ” কসমেটিক সন্ধ্যা “।

কবি’র প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ থেকে পাঠকদের জন্য কয়েকটি কবিতা তুলে ধরা হলোঃ

শূন্যস্থান

শূন্যস্থানে জল শব্দটি বসল
সাথে সাথে ভিজে গেল প্রশ্নপত্র
প্রশ্নপত্রের শেষপ্রান্তে আঁকা একটি পাখি

শূন্যস্থানের সব জল পান করে
উড়ে গেল নক্ষত্রের দিকে
সেদিন থেকে উত্তরপত্র জুড়ে কেবলই শূন্যস্থান।

দ্বিতীয় দৃশ্য

দৃশ্যের ভেতরে দলামোচা সাপ
ঘুম ভাঙ্গলে নড়ে ওঠে দৃশ্য

জেগে ওঠে কাঁঠালচাঁপা
ঘ্রাণে ক্ষয়রোগে আক্রান্ত আশ্বিনের চাঁদ
ফুলে ওঠে নদী
ভেসে যায় নিঃসঙ্গ দুপুর ও তার ছায়া

কিছুক্ষণ পর ক্ষুধার্ত সাপ বিস্কুটের মতো খেয়ে ফেলে সব দৃশ্য
অতঃপর খুনি সাপ হেঁটে যায় দ্বিতীয় দৃশ্যে।

বিশুদ্ধ ধর্ষণ

প্রেম অনুভবে গোলাপ আনকোরা
তার শরীর বিশুদ্ধ শাদা কাগজ

সে সহ্য করেছে পৃথিবীর শুদ্ধতম ধর্ষণ
তবুও আকাশে দিব্যি উড়ে বেড়ায় লম্পট মৌমাছি

নারী, তুমিও গোলাপ
তোমার ঘ্রাণশাস্ত্র পাঠে ব্যস্ত পুরুষ
অথচ তোমার শরীরে বেশ্যার সিল!

আয়না

টেবিলের উপরে দুইটা মার্বেল
দুজনের সাথে মারামারি করে দুজনেই ভেঙে যায়
আর সেইদিন থেকেই আমি অন্ধ

খতিয়ানের পাতা থেকে রাত নামলো ঘরে
দাগ নাম্বার ঠিকঠাক

সব আলো নিভে গেলে উজ্জ্বলতা বাড়ে
মার্বেলের ভাঙা টুকরোগুলি আয়না হয়ে যায়
ভেসে উঠি আমরা দুজন।

ব্ল্যাকবোর্ডে নুনগাছ

রাত একটি ব্ল্যাকবোর্ড
একযুগ দাঁড়িয়ে ছিল ডাস্টারের অপেক্ষায়
ডাস্টার এলে
ব্ল্যাকবোর্ডের দৈর্ঘ্যে ঢেকে যায় পৃথিবীর দৈর্ঘ্য

রাতের বিজয় উৎসবে হেঁটে যায় চোখ
চোখের ভেতরে সূর্য নিহত হলে পালিয়ে যায় সব নক্ষত্র
সালোকসংশ্লেষণের অভাবে
শুকিয়ে যায় হরিণের মত ছুটে আসা ভোরগুলি

নুনহীন চোখ বেদনা শূন্য
নখ ওঠার শব্দে ব্ল্যাকবোর্ডে বেড়ে ওঠে নুনগাছ ।

রুদ্র আমিন

মোঃ আমিনুল ইসলাম রুদ্র, জন্ম : ১৪ জানুয়ারি, ১৯৮১। ডাক নাম রুদ্র আমিন (Rudra Amin)। একজন বাংলাদেশ কবি, লেখক ও সাংবাদিক। নক্ষত্র আয়োজিত সৃজনশীল প্রতিযোগিতা-২০১৬ কবিতা বিভাগে তিনি পুরস্কার গ্রহণ করেন। জন্ম ও শিক্ষাজীবন মোঃ আমিনুল ইসলাম রুদ্র ১৯৮১ সালের ১৪ জানুয়ারি মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর উপজেলার ফুলহারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মোঃ আব্দুল হাই ও মাতা আমেনা বেগম। পরিবারে তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি বড়। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা জীবন কেটেছে খাগড়াছড়ি এবং বগুড়া সদর উপজেলায়। বগুড়ার আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন পাবলিক স্কুল ও কলেজ থেকে এসএসসি ও মানিকগঞ্জের দেবেন্দ্র কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর তিনি ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি থেকে ডিপ্লোমা ইন কম্পিউটার গ্রাফিক্স ডিজাইন কোর্স সম্পন্ন করেন। কর্মজীবন মূল পেশা থেকে দূরে সরে গিয়ে তিনি লেখালেখি এবং সাংবাদিকতায় জড়িয়ে পড়েন। তিনি প্রায় সব ধরনের গণমাধ্যমে কাজ করেছেন। কাজ করেছেন দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকায়। বর্তমানে তিনি জাতীয় দৈনিক আলোকিত প্রতিদিন এর ষ্টাফ রিপোর্টার ও অনলাইন নিউজপোর্টাল নববার্তা.কম এর প্রকাশক ও সম্পাদক হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি উইকিপিডিয়াকে ভালোবেসে উইকিপিডিয়ায় অবদানকারী হিসেবে উইকিপিডিয়া অধ্যয়নরত আছেন। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ : যোগসূত্রের যন্ত্রণা (২০১৫); আমি ও আমার কবিতা (২০১৬); বিমূর্ত ভালোবাসা (২০১৮)। প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ : আবিরের লালজামা (২০১৭)।

https://rudraamin.com

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।