ভালোবাসার অভিব্যক্তি

বিমূর্ত ভালোবাসা

অধরা জানো,
আঁধার আজ খুব ভালো লাগে
ভালো লাগে বন্ধো কারাগার
এখানে আলোক স্বল্পতা, বাতাসে গা পচা উপ্ততা
সবই যেন কেমন কেমন অমৃত লাগে
এখানে কেউ আর রুদ্র বলে ডাকে না
ডাকে না তসলিমার প্রেমিকা বলে।

কানের পাশে বাতাসের কথা বলা শুনতে পাই মাঝে মাঝে
শুনতে পাই অতৃপ্তিকর বাণী, কখনো ধর্ষক কখনো প্রতারক
শুধু শুনতে পাইনা প্রেমিক শব্দটি কিংবা ভালোবাসা
এখানে কয়েদী নামেই বেশ পরিচিত
জেনে রেখো অধরা,
এই নামেই বেশ ভালো আছি।

যখন কারো মুখে ভালোবাসা বা প্রেমিক শব্দটি শুনতে পাই
মাথায় চৈতা পাগলের মতো ফুটন্ত পানির ন্যায় রক্ত টগবগ করতে থাকে
মনে হয় আরেকটি অপরাধ করি-
প্রেয়সীর মিথ্যে অপবাদের চেয়ে খুনীর খেতাব অনেক ভালো
কেউ কি ভালোবাসায় প্রতারক শুধু শুধু হয়?

অতীতে ভালোবাসা প্রতিদিন প্রতিমূহুর্ত এতোটাই পেটাতো যে
ধারালো ব্লেড দিয়ে শরীর কেটে হৃদপি- টুকরো টুকরো করে ফেলতে ইচ্ছে হতো
তবুও পারিনি, ক্যানো না
ভালোবাসার খিদের যন্ত্রনা এতোটাই কাবু করে দিয়েছিলো
তবুও ভালোবাসার দরজায় বারংবার ঠকঠক কড়া নেড়েছি
চলে গেছে অনেক দিন, যন্ত্রণা মাউন্ট এভারেস্ট পেরিয়ে গ্যাছে
জীবনের শেষ হিসেব নিকেষ বুঝে নিতে,
সেদিন চৌকাঠ পেরিয়েছিলাম
জানতে চেয়েছিলাম, কেন আজ এতো অবহেলা অযতœ ভালোবাসার
কিন্তু পারিনি, প্রেয়সীর স্পর্শে স্পর্শিত না হয়েও পেলাম
নির্যাতিত নির্যাতনের মামলা অবশেষে, সেটা আর কিছুই নয় শুধু ধর্ষক

বলতে পারো প্রেয়সী
এতোটা ঘৃণা নিয়ে কীভাবে বেঁচে থাকা যায়?
অতঃপর আজও জানতে ইচ্ছে করে ক্যামোন আছো?
হৃদপি-টা বড্ড জ্বালাতন করে সেদিনের মতো
অধরা, পারলে ৩০২ ধারায় আরেকটা মামলা দিও
এ ভ- প্রতারক যতোদিন বেঁচে থাকবে দু’জনার তানপুরাটা সঙ্গীত রচনা কোরে যাবে
কীভাবে ভুলে যাবে সেদিনের কথা, বুকের মাঝে মাথা রেখে বলেছিলে
এ হৃদয় শুধু তোমারই নাম উচ্চারণ কোরে চলেছে
প্রতিশ্রুতিতে বলেছিলে, চলো আমরা দু’জন পালিয়ে বিয়ে করি
কিন্তু, জীবন মানেই যে বাহুল্য বাতাস, সে তুমিই তার জ্বলন্ত প্রমাণ
ভালোবাসা, আজ তোমাকে মনে হলেই বড্ড ঘেন্না হয়।

রুদ্র আমিন

মোঃ আমিনুল ইসলাম রুদ্র, জন্ম : ১৪ জানুয়ারি, ১৯৮১। ডাক নাম রুদ্র আমিন (Rudra Amin)। একজন বাংলাদেশ কবি, লেখক ও সাংবাদিক। নক্ষত্র আয়োজিত সৃজনশীল প্রতিযোগিতা-২০১৬ কবিতা বিভাগে তিনি পুরস্কার গ্রহণ করেন। জন্ম ও শিক্ষাজীবন মোঃ আমিনুল ইসলাম রুদ্র ১৯৮১ সালের ১৪ জানুয়ারি মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর উপজেলার ফুলহারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মোঃ আব্দুল হাই ও মাতা আমেনা বেগম। পরিবারে তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি বড়। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা জীবন কেটেছে খাগড়াছড়ি এবং বগুড়া সদর উপজেলায়। বগুড়ার আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন পাবলিক স্কুল ও কলেজ থেকে এসএসসি ও মানিকগঞ্জের দেবেন্দ্র কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর তিনি ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি থেকে ডিপ্লোমা ইন কম্পিউটার গ্রাফিক্স ডিজাইন কোর্স সম্পন্ন করেন। কর্মজীবন মূল পেশা থেকে দূরে সরে গিয়ে তিনি লেখালেখি এবং সাংবাদিকতায় জড়িয়ে পড়েন। তিনি প্রায় সব ধরনের গণমাধ্যমে কাজ করেছেন। কাজ করেছেন দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকায়। বর্তমানে তিনি জাতীয় দৈনিক আলোকিত প্রতিদিন এর ষ্টাফ রিপোর্টার ও অনলাইন নিউজপোর্টাল নববার্তা.কম এর প্রকাশক ও সম্পাদক হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি উইকিপিডিয়াকে ভালোবেসে উইকিপিডিয়ায় অবদানকারী হিসেবে উইকিপিডিয়া অধ্যয়নরত আছেন। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ : যোগসূত্রের যন্ত্রণা (২০১৫); আমি ও আমার কবিতা (২০১৬); বিমূর্ত ভালোবাসা (২০১৮)। প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ : আবিরের লালজামা (২০১৭)।

https://rudraamin.com

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।