শিক্ষিত নয়, কও মানুষ হও!

প্রবন্ধ

ওই মিয়া, কথায় কথায় শুধু শুদ্ধ কথা কও ক্যা? আমাগো কতা কি তোমাগো শুদ্ধ মনে অয় না। টিভিতে কও, স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে কও; যেহানে একটু জায়গা পাও হেহানেই কও। আচ্ছা এতো কি কও? কি সুনদর কতা ” বই মানুষকে আলোকিত করে” প্রিয়জনকে বই উপহার দিন। পড়ালেখা করে যে গাড়ি ঘোড়ায় চড়ে সে। কি সব উল্টা পাল্টা কথা কও। কই কারো মুহে তো হুনি না আগে মানুষ হও, মানুষের লাহান মানুষ হও। আচ্চা কও তো দেহি, এতো সুনদর সুনদর কতা কইয়া কি দেশের মানুষরে ভালো করোন গেছে? যায় নাই, এখন মনে প্রশ্ন জাগে; দেশে কি মানুষ আছে?

তোমাগো লাহান কোট টাই পড়া মানুষকে আমার মানুষ মনে অয় না। মুখে এক কও আর কাজে আরেক। পতিতা পল্লীর জনক হইয়াও মাইয়াগো বেশ্যা কইয়া গাইল দেও। কই কোনো মাইয়া কি তোমাগো লাহান পুরুষ ব্যাটা ছাওয়ালগো বেশ্যার জনক কইয়া গাইল দিছে ? দেয় নাই। অনাথ শিশু রাস্তায় খিদার জ্বালায় চাঁদের লাহান হইয়া শুইয়া থাকে, কই কাউরে তো দেহি নাই মাথায় হাত বুলাইয়া জিজ্ঞাস করতে, এই ছেলে তোমার বাবা কই, মা কই ? যাগগে ওসব কতা। এহন তুমি কও, বুকে হাত দিয়া কও? তোমার বাবা-মায়ের খবর কি ? নাকি তোমরাও ঐ রাস্তায় পইড়া থাকা পোলাপাইনের লাহান কোন খবর জানো না।

চারদিকে বিল্ডিং আর বিল্ডিং, ইট কাঠ রডের বেরায় পৃথিবী বন্দি হইয়া গ্যাছে। বিষাক্ত হইয়া গ্যাছে পরিবেশ। গাছ-পালা কাইটা ধু-ধু মরুভূমি বানাইয়া ফালাইছে জগৎ। সবাই ক্যান যে সুখ খুঁইজা বেড়ায় হেইডাই বুঝি না। দুখ কি সুখ না? ক্যান যে মানুষ ভুইলা যায় জগতের আলো বেশি দিনের লয়।

কারে কি কই, রহিজের দশ বছরের ডাগর মাইয়া তালির পর তালি দেয়া জামা গায় দিয়া স্কুলে যায়। স্কুলে গিয়া বইয়া থাকে শেষ বেঞ্চিতে। কই কোনো মাস্টর তো তারে ডাইকা সবার লগে বসতে কয় না। মানুষ কই আছে? শিশু বয়স তোন ভেদাভেদ শুরু হইচে। বড় বড় জজ, ব্যারিস্টার ওইয়া কি লাভ ওইবো। পরিবার, প্রাথমিক শিক্ষা, পরিবেশ, রহিজের মাইয়ার মতো হাজারও মাইলা পোলাপাইনে ছাড় দেয় নাই। এবার কন তো বই কেমন কইরা মানুষরে আলোকিত করে?

এতো কতা কউন ভালো লাগে না, তবুও ক্যান যে মুখ খানা বিরবির কইরা প্যাচাল পারে হেইডাই বুঝি না। চারপাশ শণির শো শো শব্দ শুনি। বাঁইচা থাকতে আর মন চায় না। সবুজ ধান খ্যাত দেহি না, পোলাইপাইনের খেলার মাঠ দেহি না। খাঁচার পাহির লাগান হগল পোলাপাইন শিক ধইয়া আকাশ দেহে। বনের পশু কি খাঁচায় বাঁইচা থাহে? ছটফট কইরা কইরা একদিন অচিন পথে হাটা শুরু করে। বাঁইচা থাকলেও পাগল হইয়া যায়। হেইডা কি মানুষ আর মানুষ থাহে?

কোট টাই পরা মানুষ গুলা হুদাই চিল্লায়। বলে-শিশুদের খেলার মাঠ চাই, গাছ লাগান পরিবেশ বাঁচান। কই তাগো তো কোনোদিন দেহি নাই গ্রামের বাড়ি গেছে। একটি গাছ লাগাইছে। হাজার বিঘা জমিরের মালিক হইয়াও তো একখান খেলার মাঠ বানায় নাই। হিংস্র বাঘের লাগান সরকারি জমির গন্ধ শুইকা হামলিয়ে পরে। আমি গেন্দু শিকদার গো, গেন্দু শিকদার। আজ কবর থাইকা দেহি যে জমি খেলার মাঠের লিগা দিছিলাম হেইডা ক্ষমতার জোরে তরতাজা পশু গুলা গিলা খাইচে। বাঁইচা থাইহা কবর খুরি সবাই।

উত্তরা, ঢাকা-১২৩০, রাত: ১০:২০, ১০১০২০১৬।

রুদ্র আমিন

মোঃ আমিনুল ইসলাম রুদ্র, জন্ম : ১৪ জানুয়ারি, ১৯৮১। ডাক নাম রুদ্র আমিন (Rudra Amin)। একজন বাংলাদেশ কবি, লেখক ও সাংবাদিক। নক্ষত্র আয়োজিত সৃজনশীল প্রতিযোগিতা-২০১৬ কবিতা বিভাগে তিনি পুরস্কার গ্রহণ করেন। জন্ম ও শিক্ষাজীবন মোঃ আমিনুল ইসলাম রুদ্র ১৯৮১ সালের ১৪ জানুয়ারি মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর উপজেলার ফুলহারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মোঃ আব্দুল হাই ও মাতা আমেনা বেগম। পরিবারে তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি বড়। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা জীবন কেটেছে খাগড়াছড়ি এবং বগুড়া সদর উপজেলায়। বগুড়ার আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন পাবলিক স্কুল ও কলেজ থেকে এসএসসি ও মানিকগঞ্জের দেবেন্দ্র কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর তিনি ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি থেকে ডিপ্লোমা ইন কম্পিউটার গ্রাফিক্স ডিজাইন কোর্স সম্পন্ন করেন। কর্মজীবন মূল পেশা থেকে দূরে সরে গিয়ে তিনি লেখালেখি এবং সাংবাদিকতায় জড়িয়ে পড়েন। তিনি প্রায় সব ধরনের গণমাধ্যমে কাজ করেছেন। কাজ করেছেন দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকায়। বর্তমানে তিনি জাতীয় দৈনিক আলোকিত প্রতিদিন এর ষ্টাফ রিপোর্টার ও অনলাইন নিউজপোর্টাল নববার্তা.কম এর প্রকাশক ও সম্পাদক হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি উইকিপিডিয়াকে ভালোবেসে উইকিপিডিয়ায় অবদানকারী হিসেবে উইকিপিডিয়া অধ্যয়নরত আছেন। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ : যোগসূত্রের যন্ত্রণা (২০১৫); আমি ও আমার কবিতা (২০১৬); বিমূর্ত ভালোবাসা (২০১৮)। প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ : আবিরের লালজামা (২০১৭)।

https://rudraamin.com

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।