শিশুকালে বড় আপু আমাকে ধর্ষণ করেছিলো

প্রবন্ধ

শিশুকালে বড় আপু আমাকে ধর্ষণ করেছিলো…কয়েকজন বড় আপু আমাকে প্রায় শারীরিক নির্যাতন করতেন, এখন শুধু ভাবি সেদিন যদি বয়সটা পনের কিংবা ষোল হতো তখন কি হতো, উল্টো হয়তো বা তিনিই নির্যাতিত হতেন সেটা ভেবে ভেবে কখনো হাসি কখনো কাঁদি। সে যাত্রায় বেঁচে গেছি, তা নাহয় মামলা হতো, মিডিয়ায় প্রকাশ হতো, সবাই নরপশু বলতো। এবার আসি অন্য কথায়, যতদূর মনে পরে তখন ক্লাস-টু তে পড়ি, নাদুসনুদুস থাকার কারণে বড় আপুরা প্রায় সবাই আমার গালে চুমু খেতেন, কেউ কেউ ঠোঁটে, এমনও হয়েছে ঠোঁট পানি দিয়ে ধুতে ধুতে ক্লান্ত হয়ে গেছি। সবচেয়ে মজার কথা হলো কেউ কেউ বুঝতে পারতো না আমি ছেলে না মেয়ে, আর তখন ঘটতো বিরাট ঘটনা, নুনু ধরে যাচাই করতে গিয়ে অনেকেই বোকার হাসি দিতেন।

এরপর যখন ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্র আমি, সেই বড় আপুদের একজন আপু, আজও মনে পড়ে দেখতে খুব সুন্দর ছিলো, তখন ভাবতাম এবং বলতাম মাকে মা “ক” আপু কি সুন্দর, টিভিতে যারা থাকে তাদের মতো। মা হাসতেন, বলতে হু, খুব সুন্দর সে। যাই হোক আপু মাকে আমাকে পড়ানোর কথা বলে তাদের বাসায় নিয়ে যেতেন। নানা পদের খাবার খাওয়াতেন, পড়ার সময় কোনো একটা কিছু ভাল করে বলতে পারলেই তিনি চুমু খেতেন, এমনকি বুকে জড়িয়েও আদর করতেন। তিনি আমার মতো দেখতে একজনকে বিয়ে করবেন বলতেন, বলতেন তুমি খুব সুন্দর ছেলে। এভাবেই পড়ালেখা চলছিল তার বাসায়। বেশি আদর পেলে যা হয়, তার অনুগত হয়ে গেলাম, একদিন বাসায় কাকা কাকী কেউ ছিলেন না, আপু আমাকে বললেন তোমাকে একটা জিনিস দেখাবো যা তুই কোনোদিন দেখিস নি। কিন্তু কথা দিতে হবে মরে গেলেও কাউকে বলবি না।

অনুগত থাকার কারণে সবটাই স্বীকার করে নিলাম। তিনি চোখ বন্ধ করতে বললেন আর যখন চোখ খুলে তাকাতে বললেন তখন আমি বধির হয়ে গেলাম, আজও কুয়াশার মতো সেই দৃশ্য চোখে ভাসে। আর আফসোস করি এক সময় আবার ঘৃণার জন্মও হয় আপুদের প্রতি। সেদিন তিনি অনেক কিছুই শিখিয়ে দিয়েছিলেন, আর সেদিনই ছিলো আমার আপুর বাসায় পড়ার শেষদিন। কিছু মূহুর্ত মনে হলে খুব কষ্ট অনুভব করি। ক্ষমা করো আপু, ৩৫ বছর আড়ালেই রেখেছিলাম জীবনের অন্যরকম এক ঘটনার কথা। কিন্তু আর পারলাম না, তোমাদের মতো অনেক নারী দেখি লিখেন, ছোটবেলার নির্যাতনের কথা, কেউ কেউ লিখতে গিয়ে প্রথম শ্রেনীর কথা বলেন, বন্ধুর পিতার কথা বলেন, চাচাতো ভাইয়ের কথা বলেন, কিন্তু তোমার মতো নারীর কথা বলেন না।

নারী নির্যাতন অহরহ হচ্ছে, এমনটা নির্যাতনের কথা শুনলেই নিজেকে ধিক্কার দিই, পুরুষ বলে নিজেকে ঘৃণা করি। কিন্তু তোমার কথা মনে হলে দুজনার দোষ খুঁজে পাই। রাষ্ট্রকে অযোগ্য বলে মনে হয়, আইন বিচার সবটাই নেশাগ্রস্থ মনে হয়। বর্হিঃবিশ্বে ধর্ষকের বিচার কঠিনতর হয়, প্রকাশ্যে বিচার হয়। যদি একবার এমন বিচার কার্য সম্পাদন করা হতো তবে নিশ্চিত বলতে পারি আমাদের দেশে ধর্ষকগুলো মানুষ হয়ে যেতো। অন্তত একবার হলেও ভাবতো আমাকেও প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হবে, গুলি করার আগে বেনেট দিয়ে আমার যৌনাঙ্গ ক্ষত-বিক্ষত করা হবে।

আরেকটি কথা না বললেই নয়, শুধু পুরুষের দোষারোপ করবেন না, ধর্ষককে নিন্দা করুন, তার শাস্তির জন্য সোচ্চার হন। পুরুষ যেমন পিতা তেমন নারী মা। আবেগ নিয়ে খেলা করা উচিত নয়। আমি সেই সকল লেখিকাদের বলছি, যারা কথায় কথায় সুন্দর সুন্দর নাটক লিখেন যৌনতা নিয়ে শিশুকালের।

রুদ্র আমিন

মোঃ আমিনুল ইসলাম রুদ্র, জন্ম : ১৪ জানুয়ারি, ১৯৮১। ডাক নাম রুদ্র আমিন (Rudra Amin)। একজন বাংলাদেশ কবি, লেখক ও সাংবাদিক। নক্ষত্র আয়োজিত সৃজনশীল প্রতিযোগিতা-২০১৬ কবিতা বিভাগে তিনি পুরস্কার গ্রহণ করেন। জন্ম ও শিক্ষাজীবন মোঃ আমিনুল ইসলাম রুদ্র ১৯৮১ সালের ১৪ জানুয়ারি মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর উপজেলার ফুলহারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মোঃ আব্দুল হাই ও মাতা আমেনা বেগম। পরিবারে তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি বড়। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা জীবন কেটেছে খাগড়াছড়ি এবং বগুড়া সদর উপজেলায়। বগুড়ার আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন পাবলিক স্কুল ও কলেজ থেকে এসএসসি ও মানিকগঞ্জের দেবেন্দ্র কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর তিনি ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি থেকে ডিপ্লোমা ইন কম্পিউটার গ্রাফিক্স ডিজাইন কোর্স সম্পন্ন করেন। কর্মজীবন মূল পেশা থেকে দূরে সরে গিয়ে তিনি লেখালেখি এবং সাংবাদিকতায় জড়িয়ে পড়েন। তিনি প্রায় সব ধরনের গণমাধ্যমে কাজ করেছেন। কাজ করেছেন দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকায়। বর্তমানে তিনি জাতীয় দৈনিক আলোকিত প্রতিদিন এর ষ্টাফ রিপোর্টার ও অনলাইন নিউজপোর্টাল নববার্তা.কম এর প্রকাশক ও সম্পাদক হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি উইকিপিডিয়াকে ভালোবেসে উইকিপিডিয়ায় অবদানকারী হিসেবে উইকিপিডিয়া অধ্যয়নরত আছেন। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ : যোগসূত্রের যন্ত্রণা (২০১৫); আমি ও আমার কবিতা (২০১৬); বিমূর্ত ভালোবাসা (২০১৮)। প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ : আবিরের লালজামা (২০১৭)।

https://rudraamin.com

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।