কৃষি ও কৃষকের গল্প : পর্ব-১

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মনোবিজ্ঞান বিভাগে পড়ালেখা শেষ করে আজ ব্যাংকে চাকরি করছে সাচ্চু। বেশ ভালো বেতনও পাচ্ছে, ছেলের চাকরি হওয়ায় বাবা মা স্বস্তিতে। এখন বিয়ে দিয়ে ঘরে একটা সুন্দর বউ আনবেন এমটাই আশা করছেন। আর সেই কারণেই ছুটিতে বাড়িতে এসেছে সাচ্চু। বাড়িতে পৌছেই বাল্য বন্ধুদের সাথে দ্যাখা করতে পুরাতন আস্তানায় হাজির।
কিরে দোস্ত তোরা কেমন আছিস? আম বাগান এখনো ছাড়তে পারলি না?
বন্ধুদের সাথে বুকে বুক রেখে বন্ধুত্বের মর্যাদা দিতে ব্যস্ত সাচ্চুর বন্ধুদ্বয় রাশেদ ও জুয়েল। এতোদিন পর বন্ধুকে কাছে পেয়ে খুব উল্লাসিত রাশেদ ও জুয়েল। হাসিমুখে রাশেদ সাচ্চুকে জিজ্ঞেস করলো —
– তা তুই কোনদিন বাড়িতে আসছিস? জানতেও পারলাম না।
রাশেদের এমন প্রশ্নের জবাবে জুয়েল বলে উঠলো –
— আরে তুই খবর জানিস না, সাচ্চুর নতুন জীবন শুরু হতে যাচ্ছে, কোরবানি হবে অতিশীঘ্রই। তখন দেখবি ভুলে যাবে আম বাগান, আঁচল বাগান পেয়ে আমাদেরও ভুলে যেতে পারে। আর তাই তো ছুটিতে এসেছে।
রাশেদ- কি বলিস? জানতে পারলাম না, এই তাহলে বন্ধুত্ব? মানুষ স্বাবলম্বী হলে আর ভালো চাকরি করলে এমনি হয়ে যায়।
সাচ্চু – আমি না হয় দূরে থাকি, স্বার্থপর হয়ে গেছি তা তোদের কাছে তো আরেক বন্ধু থাকে, তাকে তো দেখছি না। ওর কথা শুনে তো অবাক হয়েছি বিসিএস এ টিকেও নাকি চাকরি করছে না।
রাশেদ–তুই কার কথা বলছিস, আমাদের রুদ্রের কথা?
সাচ্চু – হু রুদ্র, ও তো বাড়িতেই থাকে শুনলাম।
রাশেদ- হু, ওর থাকা আর না থাকা, শিক্ষিত হয়ে কৃষক হয়ে গেছে, দেশকে বদলাতে চায়, গ্রামকে আলোকিত গ্রাম বানাতে চায়। জমি, গ্রামের মানুষ আর কৃষক এখন তার বন্ধু। কি আর বলবো, শিক্ষিত পোলা তুই ভালো চাকরি করবি, ভালোভাবে থাকবি এমনটাই তো চাই। হাজার হলেও আমরা সবাই বাল্যকালের বন্ধু। বন্ধুদের কেউ ভালো পজিশনে থাকলে বন্ধুদেরই তো ভালো লাগার কথা। কিন্তু না তিনি যে বিষয় নিয়ে পড়ালেখা করেছেন সে বিষয়ে চাকরি না হলে অন্য বিষয় নিয়ে চাকরি করবে না, তুই বল — বিসিএস-এ টেকা কি সহজ কথা? হাতে সে সেই সোনার ডিম পারা হাঁস পেয়েও তিনি করবেন না; তাকে কৃষিকর্মকর্তা বানাতে হবে। বল এটা কোনো যুক্তির কথা হলো। তোর কথাই বলি মনোবিজ্ঞান নিয়ে পড়ালেখা করে তুই ব্যাংকে চাকরি করছিস, কি সমস্যা। হয়তো তুই কোনো বিসিএস ক্যাডার হতে পারিসনি তাই বলে পাওয়া চাকরি কেউ হারায়?
সাচ্চু – ওসব কথা বাদ দেয় তো, বন্ধু যদি বাল্যকালের বন্ধুদের ভুলো যায় তাহলে তার থেকে দূরে থাকাই ভালো। হয়তো ভালো ছাত্র বলে নিজেকে নিয়ে গর্ব করে আর ভাব ধরে চলে এমনটাই হবে। বাদ দে ওর কথা।
জুয়েল- বন্ধু তোরা দু’জন কিন্তু একটু বেশি বলে ফেলছিস, রুদ্রের গর্ব নেই যদি গর্ব থাকতো তাহলে চাকরিই করতো, কৃষক হতো না কিংবা গ্রামের মানুষের জন্য ঝাপিয়ে পড়তো না। গ্রামের মানুষ বিপদে পড়লে ওর কাছেই আগে যায় পরামর্শ নিতে।
রাশেদ – এসব কথা বাদ দে, ভালো লাগে না। সাচ্চু অনেকদিন পর এসেছে ওর সাথে একটু সুখ দুখের কথা বলি। দোস্ত এনে বসতো, তোকে কিছু কথা জিজ্ঞেস করি। তা মেয়েটি দেখতে ক্যামন, কোথায় বাড়ি, পড়ালেখা কতদূর, বর হিসেবে কি কি পাচ্ছিস?

রুদ্র আমিন

মোঃ আমিনুল ইসলাম রুদ্র, জন্ম : ১৪ জানুয়ারি, ১৯৮১। ডাক নাম রুদ্র আমিন (Rudra Amin)। একজন বাংলাদেশ কবি, লেখক ও সাংবাদিক। নক্ষত্র আয়োজিত সৃজনশীল প্রতিযোগিতা-২০১৬ কবিতা বিভাগে তিনি পুরস্কার গ্রহণ করেন। জন্ম ও শিক্ষাজীবন মোঃ আমিনুল ইসলাম রুদ্র ১৯৮১ সালের ১৪ জানুয়ারি মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর উপজেলার ফুলহারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মোঃ আব্দুল হাই ও মাতা আমেনা বেগম। পরিবারে তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি বড়। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা জীবন কেটেছে খাগড়াছড়ি এবং বগুড়া সদর উপজেলায়। বগুড়ার আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন পাবলিক স্কুল ও কলেজ থেকে এসএসসি ও মানিকগঞ্জের দেবেন্দ্র কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর তিনি ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি থেকে ডিপ্লোমা ইন কম্পিউটার গ্রাফিক্স ডিজাইন কোর্স সম্পন্ন করেন। কর্মজীবন মূল পেশা থেকে দূরে সরে গিয়ে তিনি লেখালেখি এবং সাংবাদিকতায় জড়িয়ে পড়েন। তিনি প্রায় সব ধরনের গণমাধ্যমে কাজ করেছেন। কাজ করেছেন দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকায়। বর্তমানে তিনি জাতীয় দৈনিক আলোকিত প্রতিদিন এর ষ্টাফ রিপোর্টার ও অনলাইন নিউজপোর্টাল নববার্তা.কম এর প্রকাশক ও সম্পাদক হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি উইকিপিডিয়াকে ভালোবেসে উইকিপিডিয়ায় অবদানকারী হিসেবে উইকিপিডিয়া অধ্যয়নরত আছেন। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ : যোগসূত্রের যন্ত্রণা (২০১৫); আমি ও আমার কবিতা (২০১৬); বিমূর্ত ভালোবাসা (২০১৮); অধরা- সিরিজ কবিতা (২০২০) প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ : আবিরের লালজামা (২০১৭)। আমার সকল লেখা পড়তে ভিজিট করুন : রুদ্র আমিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *