স্বাস্থ্য কার্ড ও ফ্রী চিকিৎসা : চিকিৎসা খাতে বাজেটের প্রায় ৮০% অর্থ যোগান

অনেক কথাই লিখতে ইচ্ছে করে না তবুও লিখতে হয়, কীবোর্ড কেন যেন আঙ্গুলগুলো পপ নৃত্যের মতো নৃত্য করেই চলে। চোখ শুধু দেখে চলে কি হচ্ছে সম্মুখের নোটগূলোতে। মস্তিষ্ক তো কিভাবে চলছে সেটা বলতে পারবো না। আর চোখের স্বচ্ছতার জন্য যে জলের ঢেউ খেলা সেই ঢেউ গুলো সিনেমার পর্দার মতো প্রদর্শিত করে চলে মানবতা বিরোধী সকল কর্মকাণ্ড। ভেসে উঠে ক্যাসপারের মতো অবুঝ শিশুর করুণ মৃত্যুর দৃশ্য। ভেসে উঠে পত্র পত্রিকার পাতায় ফলাও করে রিপোর্ট করা সেই সকল মুক্তিযোদ্ধার ছবি। যারা চিকিৎসার অভাবে তিলেতিলে মৃত্যুর পথে যাত্রা পা বাড়িয়ে চলছে তো চলছেই। হ্যাঁ আমরা কেউ বেঁচে থাকবো পৃথিবীতে এটাই সত্য এটাই চিরন্তন। মাঝে পথে কথা রয়ে যায় আকাশ চুম্বী। মনের পড়ে যায় আমাদের সরকারী হাসপাতালের বেহাল দশার দৃশ্য। কে ডাক্তার কে নার্স কিছুই বুঝা যায় না। অনেক সময় হাসপাতালের গার্ডকে মনে হয় ঐ হাসপাতালের মালিক।

আসলে আমাদের সোনার বাংলার মোট জনসংখ্যা কত? আমরা এমন দেশে বসবাস করি আমাদের প্রকৃত জনসংখ্যার তথ্য আমাদের জানা নেই। যতটুকু আমরা জানি সবটুকুই তার ভুল পরিসংখ্যান। যাক সেই ভুল তথ্য হিসেবেই হিসেব করি ১৫ কোটি ৬০ লক্ষ ৫০ হাজার ৮৮৩ জন। দেশের তুলনায় আমাদের জনসংখ্যা অনেক বেশি। স্বাস্থ্য খাতে সমস্যা সামান্য হতেই পারে। তবে এই সমস্যা আমি বলবো আমাদের সরকার প্রধানদের কারনেই ঘটছে। হাসপাতাল আছে ডাক্তার নেই, ডাক্তার আছে ঔষুধ নেই। ডাক্তারগুলো কসাই হয়ে গেছে। তাদের এতোই অর্থের প্রয়োজন যে হাসপাতালের ডিউটি অবস্থায় তারা বাহিরে চেম্বার খুলে যেখানে সেখানেই বসেন। দোষ ডাক্তারদের নয় দোষ আমাদের সরকার প্রধানদের। তাদের তদারকরির অনেক অভাব।

বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর প্রতি জনসংখ্যার চিকিৎসা কার্ড আছে। আর আমাদের দেশে আছে সরকারি দলের নেতানেত্রীদের। রাষ্ট্রের টাকা যেন জনগণের নয় তাদের বাপ দাদারা যেন মজুত করে রেখে গিয়েছিলেন চৌদ্দ পুরুষ আগে। ক্ষমতায় এসে সেই টাকার জোরে নিজেদের চিকিৎসা দেশের বাহিরে গিয়ে করিয়ে আসেন। তাদের এতো সুবিধা তবে কেন সাধারন জনগণের শতকরা একভাগ সুবিধা নেই?

২০১৩-১৪ অর্থবছরে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন খাতে মোট ৯ হাজার ৪৭০ কোটি বরাদ্দ করা হয়েছে। আর ২০১৯-২০ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে শতকরা ৪ দশমিক ৯ শতাংশ বা প্রায় ২৫ হাজার ৬৩৬ কোটি টাকা। এই অর্থ কোথায় দেয়া হচ্ছে কতটুকু এর ঠিক ব্যবহার হচ্ছে সেটা কি আমাদের সরকার প্রধানরা খতিয়ে দেখছেন। কেন সরকারি হাসপাতাল গুলোতে বিনামূল্য ঔষধের সবরাহ নেই। বরাদ্ধকৃত ঔষুধ গুলো কোথায় যায় ? স্বাস্থ্য খাত সরকারের কাছে ক্রমান্বয়ে গুরুত্বহীন হয়ে পড়ছে। কেন এমন হবে ? সমাধানের কি কোন পথ খোলা নেই সরকারের?

কেন সরকার আমাদের জনগণের জন্য বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্যকার্ড করে দিচ্ছেন না? বহিঃবিশ্বের দিকে কেন খেয়াল করছেন না? বাৎসরিক বাজেটের সাথে যদি মোট জনসংখ্যার (১৮,৬০,৫০,৮৮৩) হিসেবে অনুযায়ী জনপ্রতি ১,০০০/-টাকা বাৎসরিক সার্ভিস চার্জ ধার্য্য করা হয় তবে এর অর্থ দাড়ায় ১৮,৬০৫,০৮,৮৩,০০০/- টাকা ১৮ হাজার ৬০৫ কোটি টাকার উপরে। যা প্রতি বছরের সরকারি বাজেটের প্রায় ৭৫% ভাগ। এমন ব্যবস্থা যদি সরকার প্রচলন করে যেতে পারে দূর্নীতি ছাড়া তবে আমাদের দেশে কারও সাহায্যের জন ভার্চুয়াল মিডিয়াগুলোতে ইভেন্ট খুলে ভিক্ষুকের মতো হাত পেতে চিকিৎসা করতে হবে না।

আমাদের সোনার বাংলার খাতের উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন ধরনের ইতিবাচক পদক্ষেপ নিচ্ছেন বা নেন। তা সত্ত্বেও কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছেন না রোগীরা। অনিয়ম, দুর্নীতি ও নানা সীমাবদ্ধতাই এর প্রধান কারণ। একই কারণে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির শিকার হন রোগীরা, থাকেন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে। সরকারি হাসপাতালে নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি ও প্রশিক্ষণার্থী বাছাইয়ে দলীয়করণ ও অর্থ আদায় করা হয়। চিকিৎসক নিয়োগ ও পছন্দের স্থানে বদলি হতে ১০ হাজার থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ লেনদেন হয়।

হাসপাতালের ওষুধ, যন্ত্রপাতি, পথ্য ক্রয়ে দুর্নীতি নৈমিত্তিক ঘটনা। বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে চিকিৎসকরা রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষার ফির ৩০-৫০ ভাগ পর্যন্ত কমিশন নেন। একইভাবে দালালরা কমিশন পায় ১০ থেকে ৩০ ভাগ। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবির এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

স্বাস্থ্যখাতে আর্থিক সীমাবদ্ধতার বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ খাতে বরাদ্দের হার ক্রমান্বয়ে কমছে। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ৬ দশমিক ৫৮ ভাগ। বর্তমানে তা কমে ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৬০ ভাগ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ভালো মানের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য স্বাস্থ্য খাতে কমপক্ষে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ করা প্রয়োজন। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির বরাদ্দ এক শতাংশ বা তারও কম। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে এ হার ছিল ১ শতাংশ। ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় দশমিক ৮৪ শতাংশ। স্বাস্থ্য খাতে মোট বরাদ্দে উন্নয়ন ব্যয়ের হার ক্রমান্বয়ে কমছে। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে মোট বরাদ্দের ৪১ দশমিক ৪ ভাগ থেকে কমে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে দাঁড়ায় ৩৮ দশমিক ৩ ভাগ।

২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে মোট বাজেটের ৫ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের (২০১৭-১৮) বাজেট প্রস্তাবনায় এ হার ছিল ৫ দশমিক ১৬ শতাংশ। স্বাস্থ্য খাতের দুটি বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ কমেছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে। চলতি অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল মোট বাজেটের ৪ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবনায় তা কমে ৩ দশমিক ৯১ শতাংশ হয়েছে। টাকার পরিমাণে চলতি অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে বরাদ্দ ছিল ১৬ হাজার ১৮২ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনায় ১৮ হাজার ১৫৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আর ২০১৯-২০ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে শতকরা ৪ দশমিক ৯ শতাংশ।

ঐ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সদর হাসপাতালের জন্য যে অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয় তা ব্যবহারের পূর্ণ ক্ষমতা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নেই। হাসপাতালের চিকিৎসা সামগ্রী জরুরি প্রয়োজনে মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ, অবকাঠামো সংস্কার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য অর্থ খরচ করার ক্ষমতা সিভিল সার্জনেরও নেই। যদি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিকট এই সকল সুবিধা না থাকে তাহলে এই সকল সুবিধা কাদের নিকট অর্পিত ? সেই অর্থ কি তাদের বহুতল আলীসান বাড়ি বানানোর জন্য দেয়া হয়েছে? সকল সরকারি দল ক্ষমতা পেলে তারা কি ভুলে যায় দেশে সাধারন জনগণ বলে এক জাতি বসবাস করে? তাদেরও বেঁচে থাকার অধিকার আছে এই দেশে?

জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিলের এক প্রজেকশনে দেখা যায় আগামী ২০২৫ সাল নাগাদ বাংলাদেশের জনসংখ্যা হবে ২১ কোটির অধিক এবং ২০৫০ সালে এই সংখ্যা ২৬ কোটি ছাড়িয়ে যাবে। মাত্র এক লক্ষ চুয়াল্লিশ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকার এই ক্ষুদ্র ভূখণ্ডে এই বিশাল জনগেষ্ঠিকে ধারণ করা রীতিমত অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। সেখানে চিকিৎসা সেবা সেটা থাকবে বলে মনে হয় না। তার মানে দেখায় যায় আমাদের তো সাধারন জনগণ চিকিৎসার অভাবে এভাবেই ধুকেধুকে মরবে। রাজনৈতিক নেতানেত্রীরা তারা সকল সুবিধা ভোগ করেই যাবে।

দেশের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সরকারকে অচিরের ভূমিকা পালন করতে হবে। জনগণকে সরকারের প্রতি আচ্ছা সৃষ্টি করতে হবে। যতদিন সরকার জনগণের আস্থাভাজন হতে না পারবে ততদিন জনগণ সকল দূর্নীতে যুক্ত হবে। একদিন তালেবানে পরিণত হবে দেশ। আইন, শিক্ষা, চিকিৎসা খাতে সরকারকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। স্বাস্থ্য সেবার জন্য সচেতন করে গড়ে তুলতে হবে। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ মাঠ পর্যায়ে সচেতন করে তুলতে হবে। ক্যাসপারের মতো আর কোন অবুঝ শিশুর চিকিৎসার অভাবে মৃত্যু দেখতে চায় না জনগণ। অবিলম্বে সকল জনগণের স্বাস্থ্যকার্ড তৈরী করতে হবে। স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নত করতে হবে। স্বাস্থ্যকার্ডের জন্য যদি অর্পিত অর্থ জনতা সরকারী কোষাগারে জমা দিলে অবশ্যই চিকিৎসা সেবার নিশ্চয়তা সরকার পক্ষকে পুরোপুরি নিশ্চয়তা দিতে হবে। একদিন সুস্থ নাগরিক সুস্থ দেশ হিসেবে সোনার বাংলা বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাড়াতে পারবে।

মোঃ আমিনুল ইসলাম রুদ্র, জন্ম : ১৪ জানুয়ারি, ১৯৮১। ডাক নাম রুদ্র আমিন (Rudra Amin)। একজন বাংলাদেশ কবি, লেখক ও সাংবাদিক। নক্ষত্র আয়োজিত সৃজনশীল প্রতিযোগিতা-২০১৬ কবিতা বিভাগে তিনি পুরস্কার গ্রহণ করেন। জন্ম ও শিক্ষাজীবন মোঃ আমিনুল ইসলাম রুদ্র ১৯৮১ সালের ১৪ জানুয়ারি মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর উপজেলার ফুলহারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মোঃ আব্দুল হাই ও মাতা আমেনা বেগম। পরিবারে তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি বড়। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা জীবন কেটেছে খাগড়াছড়ি এবং বগুড়া সদর উপজেলায়। বগুড়ার আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন পাবলিক স্কুল ও কলেজ থেকে এসএসসি ও মানিকগঞ্জের দেবেন্দ্র কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর তিনি ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি থেকে ডিপ্লোমা ইন কম্পিউটার গ্রাফিক্স ডিজাইন কোর্স সম্পন্ন করেন। কর্মজীবন মূল পেশা থেকে দূরে সরে গিয়ে তিনি লেখালেখি এবং সাংবাদিকতায় জড়িয়ে পড়েন। তিনি প্রায় সব ধরনের গণমাধ্যমে কাজ করেছেন। কাজ করেছেন দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকায়। বর্তমানে তিনি জাতীয় দৈনিক আলোকিত প্রতিদিন এর ষ্টাফ রিপোর্টার ও অনলাইন নিউজপোর্টাল নববার্তা.কম এর প্রকাশক ও সম্পাদক হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি উইকিপিডিয়াকে ভালোবেসে উইকিপিডিয়ায় অবদানকারী হিসেবে উইকিপিডিয়া অধ্যয়নরত আছেন। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ : যোগসূত্রের যন্ত্রণা (২০১৫); আমি ও আমার কবিতা (২০১৬); বিমূর্ত ভালোবাসা (২০১৮)। প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ : আবিরের লালজামা (২০১৭)।

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *