ভাষা সংগ্রামী ও স্বাধীন বাংলার প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম স্থপতি বঙ্গবন্ধুর আস্থাভাজন সহকর্মী স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ভাষা সংগ্রামী তাজউদ্দীন আহমদ ২৩ জুলাই ১৯২৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন। আজ তাঁর ৯৫তম জন্মজয়ন্তি। বেঁচে থাকলে আজ তাঁর বয়স হতো ৯৫ বছর। কিন্তু তিনি বেঁচে নেই। যেমন বেঁচে নেই বঙ্গবন্ধু, গান্ধী, ইন্দিরা গান্ধী, মার্টিন লুথার কিং। তারা সবাই গুলিবিদ্ধ হয়ে মরেছেন। গুলি ছুড়েছে যে খুনিরা তারা প্রগতির ধারা ও সভ্যতাকেও স্তব্ধ করতে চেয়েছে।

তাজউদ্দীন আহমদ (জুলাই ২৩, ১৯২৫ – নভেম্বর ৩, ১৯৭৫ ) বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ও স্বাধীনতা সংগ্রামের জাতীয় চার নেতার অন্যতম নেতা। তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব সাফল্যের সাথে পালন করেন। একজন সৎ ও মেধাবী রাজনীতিবিদ হিসেবে তাঁর পরিচিতি ছিল। তাজউদ্দীন আহমদ বাংলাদেশের রাজনীতিতে মেধা, দক্ষতা, যোগ্যতা, সততা ও আদর্শবাদের অনন্য প্রতীক। ছাত্রজীবনেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সৎ আদর্শবান সংগঠক এবং তীক্ষ্ণ মেধাসম্পন্ন রাজনৈতিক নেতা। মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অসামান্য অবদান জাতি কখনো ভুলবে না।

বাংলাদেশের অন্যতম স্রষ্টা তাজউদ্দীন আহমদ ১৯২৫ সালের ২৩ জুলাই শীতলক্ষ্যার তীরঘেষা গাজীপুর জেলার অন্তর্গত কাপাসিয়ার দরদরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম মৌলভী মুহাম্মদ ইয়াসিন খান এবং মায়ের নাম মেহেরুন্নেসা খানম। তাঁর স্ত্রী সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর বর্তমান সদস্য। তাঁদের ৪ সন্তান রয়েছে। বড় মেয়ে শারমিন আহমদ রিতি; মেজো মেয়ে বিশিষ্ট লেখিকা ও কলামিস্ট সিমিন হোসেন রিমি এবং কনিষ্ঠা মেয়ে মাহজাবিন আহমদ মিমি। পরিবারের সর্বকনিষ্ঠ সন্তান তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে আসীন অবস্থায় পদত্যাগ করেন। ছোট ভাই তানজিম আহমদ সোহেল তাজের পদত্যাগের কারণে শূন্য হওয়া আসনে গত ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১২ – গাজীপুর-৪ (কাপাসিয়া) অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী বঙ্গতাজ তাজউদ্দিন আহমেদের মেজো মেয়ে বিশিষ্ট লেখিকা ও কলামিস্ট সিমিন হোসেন রিমি বিজয়ী হয়ে গত ৭ অক্টোবর ২০১২ সংসদ সদস্য হিসাবে শপথ নিয়েছেন।

৪ ভাই, ৬ বোনের মাঝে ৪র্থ তাজউদ্দীন আহমদের পড়াশোনা শুরু বাবার কাছে আরবি শিক্ষার মাধ্যমে। এই সময়ে ১ম শ্রেণীতে ভর্তি হন বাড়ির দুই কিলোমিটার দূরের ভূলেশ্বর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে৷ ১ম ও ২য় শ্রেণীতে ১ম স্থান অর্জন করেন৷ ৪র্থ শ্রেণীতে ভর্তি হন বাড়ি থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরের কাপাসিয়া মাইনর ইংলিশ স্কুলে। এরপর বিদ্যালয় পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় পড়েছেন কালিগঞ্জ কালিগঞ্জ সেন্ট নিকোলাস ইনস্টিটিউশন, ঢাকার মুসলিম বয়েজ হাই স্কুল ও সেন্ট গ্রেগরিজ হাই স্কুলে৷ স্কুলে সকল পরীক্ষায় তাজউদ্দীন আহমদ বরাবর প্রথম স্থান অধিকার করেছেন। ষষ্ঠ শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় তিনি ঢাকা জেলায় প্রথম স্থান অধিকার করেছেন। এ সময় একজন স্কাউট হিসেবে স্কাউট আন্দোলনের সাথে যুক্ত হন। পরবর্তী কর্মজীবনে যা তাঁর প্রেরণা ও কাজ করার ক্ষমতা জুগিয়েছে। এ সম্পর্কে তিনি বলেছেন – ‘স্কাউট হিসেবে শিক্ষা, স্বাধীনতা সংগ্রামে আমাকে অমানুষিক পরিশ্রম করতে প্রেরণা ও ক্ষমতা জুগিয়েছে’। তিনি ম্যাট্রিক (১৯৪৪) ও ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় অবিভক্ত বাংলার সম্মিলিত মেধাতালিকায় যথাক্রমে দ্বাদশ ও চতুর্থ স্থান (ঢাকা বোর্ড ) লাভ করেন। ১৯৫০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে বি.এ (সম্মান) ডিগ্রী লাভ করেন। ১৯৬৪ সালে রাজনৈতিক বন্দী হিসেবে কারাগারে থাকা অবস্থায় এল.এল.বি. ডিগ্রীর জন্য পরীক্ষা দেন এবং পাস করেন। এছাড়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সিভিল ডিফেন্স-এর ট্রেনিং নিয়েছিলেন তিনি। তাজউদ্দীন আহমদ পবিত্র কোরানে হাফেজ ছিলেন। তাজউদ্দীন আহমদ ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতি ও সমাজসেবার সাথে অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। রাজনীতি ও শিক্ষা তাঁর হাতে হাত ধরে চলেছে ১৯৪৩ সালে তাজউদ্দীন আহমদের ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যোগদান করার মাধ্যমেই মূলত রাজনীতিতে হাতেখড়ি। ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের পর থেকে ভাষার অধিকার, অর্থনৈতিক মুক্তি এবং সামপ্রদায়িকতাবিরোধীসহ সব আন্দোলনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। আওয়ামী লীগের গঠন প্রক্রিয়ার মূল উদ্যোক্তাদের তিনি একজন। ১৯৪৮ সালে জিন্নাহর বক্তব্যে সারাদেশে তুমুল ঝড় ওঠে। এরপর যে পাঁচজন ছাত্রনেতা ভাষার প্রশ্নে জিন্নাহর সঙ্গে দেখা করেন, তাদের মধ্যে তাজউদ্দীন আহমদ অন্যতম। পরে ১৯৪৯ সালে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হলে এই দলে যোগ দেন তিনি। আওয়ামী লীগ আর বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে বাকি জীবন পার করেন। ১৯৬৬ সালে তিনি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ওই বছরই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির মুক্তির সনদ ৬ দফা ঘোষণা করেন। ৬ দফার অন্যতম রূপকার হলেন তাজউদ্দীন আহমদ।

১৯৭০ সালের নির্বাচনের পর পাকিস্তানের সামরিক শাসকগোষ্ঠী আওয়ামী লীগের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর না করায় ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে শুরু হয় অসহযোগ আন্দোলন। এই অসহযোগ আন্দোলন পরিচালনায় তাজউদ্দীন আহমদ যথেষ্ট সাংগঠনিক দক্ষতা ও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেন। এরপর ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতারের পর একতরফাভাবে গণহত্যা শুরু করে। এরপর শুরু হয় বাঙালির সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তির সংগ্রাম। বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে তখন নেতৃত্বের মূল দায়িত্ব তাজউদ্দীন আহমদের ওপর অর্পিত হয়। তার জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি ১৯৭১ সালে এক চরম সংকটময় মুহূর্তে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার গঠন করে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে সফলভাবে ভূমিকা পালন করেছেন। তাজউদ্দীন আহমদ এই গুরুদায়িত্ব যথাযথভাবে পালনে মাত্র ৯ মাসের মধ্যে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রীর দায়িত্ব নেন।

সাম্প্রতিক কালের আমাদের গোটা ইতিহাসকেই নানাভাবে বিকৃত করা হয়েছে। এ কাজ কোনো এক পক্ষ করেনি, করেছে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় মত্ত একাধিক পক্ষ। এর আরম্ভ ১৯৭২ সালের প্রায় শুরু থেকেই: তাজউদ্দীন আহমদ (১৯২৫-১৯৭৫) ও প্রবাসে গঠিত প্রথম বাংলাদেশ সরকারকে (১৯৭১) বিস্মৃতির অতল গহ্বরে তলিয়ে দেওয়ার আয়োজন দিয়ে। মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে প্রায় সব আলোচনাই হয় মুক্তিযুদ্ধকালীন রাজনীতি ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে বাদ দিয়ে কিংবা যথোচিত গুরুত্ব না দিয়ে। এতে ইতিহাস বিকৃত হয়ে যায়। কোনো জাতির ইতিহাসকে বিকৃত করলে সেই জাতির আত্মাই বিকৃত হয়ে যায়। প্রচলিত অর্থে তাজউদ্দীন আহমদ অসাধারণ ‘ভালো ছাত্র’ ছিলেন। কিন্তু ‘ভালো ছাত্রদের’ ‘আত্মোদরসর্ব সত্তা’ তাঁর মধ্যে ছিল না। তিনি গতানুগতিক ধারায় চলেননি। অন্তর্গত সামাজিক দায়িত্ববোধে তাড়িত হয়ে নিজের জীবনের জন্য সৃষ্টিশীল রাজনীতির কঠিন-কঠোর পথ বেছে নিয়েছিলেন। স্বাধীন বাংলাদেশে জীবন দিয়ে তাঁকে রাজনীতি করার মূল্য পরিশোধ করতে হয়েছে। শিকার হয়েছেন বহুমুখী ষড়যন্ত্রের।

যে আয়োজন যুদ্ধপূর্ব বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে—সব রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরে দরকার ছিল, তার কিছুই করা হয়নি। তৎকালীন আওয়ামী লীগের ও অন্যান্য দলের ভেতরে তাকালে দেখা যায় ভেতর থেকে আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য দল মোটেই শক্তিশালী হয়নি। কোনো দলকে ভেতর থেকে শক্তিশালী করতে হলে সেই দলে শৃঙ্খলা, আদর্শগত ও নৈতিক অনুশীলন, কর্মসূচি, কর্মনীতির চর্চা ইত্যাদি অপরিহার্য।

এ দেশের রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে সাধারণত যে লঘুচিত্ততা, ভাবালুতা, অদূরদর্শিতা, অস্থিরচিত্ততা, অমার্জিত ক্ষমতালিপ্সা, হীনস্বার্থপরতা, ভাঁওতাপ্রবণতা, বাকচাতুর্য ও দুর্নীতিপ্রবণতা লক্ষ করা যায়, তাজউদ্দীন আহমদের মধ্যে তা ছিল না। তিনি ছিলেন স্থিতধী ও দূরদর্শী। তাঁর ব্যক্তিত্বে ছিল সেই দুর্লভ বৈশিষ্ট্য, ইংরেজিতে যাকে বলে ‘সিরিয়াসনেস’। কৈশোরকাল থেকেই তিনি ছিলেন চিন্তাশীল, সমাজসচেতন, কর্তব্যপরায়ণ এবং উন্নত মূল্যবোধ ও নৈতিক চেতনার অধিকারী। ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক জীবনে তিনি কথার মূল্য বা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে চলতেন, আর ছোট ছোট কাজের মধ্য দিয়েও সমাজসচেতনতা, স্বাজাত্যবোধ ও স্বদেশপ্রীতির পরিচয় দিয়েছেন। নিজের অস্তিত্বকে তিনি খুব স্বাভাবিকভাবেই অনুভব করেছেন সবার মধ্যে সবার অংশ রূপে। কিন্তু সে অনুসন্ধান করে আমি দেখেছি, তাঁর এখানকার, কাপাসিয়া এলাকায়, তাঁর সম্পর্কে এসব বিষয়ে জনশ্রুতির অন্ত নেই। তাঁর জীবন ও কর্ম পর্যালোচনা করলে বোঝা যায়, আবেগ তাঁর মধ্যে ছিল, কিন্তু আবেগের চালকশক্তি কাজ করেছে বিবেক ও বুদ্ধি। হয়তো তিনি জাতির স্মৃতিতে চিরকাল বেঁচে থাকতে চেয়েছিলেন, যার জন্য তিনি জাতির স্বার্থে নিজের জীবনকে নিঃশেষে দান করার ঝুঁকি নিয়েছিলেন। অস্তিত্বের ঊর্ধ্বে রাজনৈতিক জীবনে জনগণের ভালোবাসা লাভের আকাঙ্ক্ষাটুকুই হয়তো ছিল তাঁর আকিঞ্চন।

তাজউদ্দীন আহমদ বক্তৃতাপ্রিয় নেতা ছিলেন না। বাগ্মিতায় তাঁর পারদর্শিতা কম ছিল। জনসভায় বক্তৃতাকালে তিনি বাগ্মিতা প্রদর্শন না করে কেবল কাজের কথাই কার্যকরভাবে বলতে চাইতেন। জানা যায়, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন বক্তব্য, বিবৃতি, কর্মসূচি, প্রচারপত্র ইত্যাদি লেখার দায়িত্ব তিনি পালন করতেন। তাজউদ্দীন স্বভাবগতভাবে আদর্শসন্ধিৎসু, আদর্শনিষ্ঠা এবং আদর্শের ভিত্তিতে জনগণের কল্যাণে প্রণীত কর্মসূচি বাস্তবায়নে আত্মনিবেদিত নেতা ছিলেন। বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র ছিল তাঁর রাজনৈতিক আদর্শ। প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী হিসেবে তিনি ক্ষমতাসীন হয়েছিলেন ক্ষমতা উপভোগের জন্য নয়, সমাজ ও জাতিকে নিয়ে তাঁর আকাঙ্ক্ষাকে সফল করার আন্তরিক তাগিদে। তিনি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন লক্ষ্য অর্জনের প্রয়োজনে—দায়িত্ব পালনের জন্য। পূর্ব পাকিস্তান গণতান্ত্রিক যুবলীগ, আওয়ামী লীগ প্রভৃতি সংগঠনে তাঁর উদ্দেশ্য ও আচরণ ক্ষমতা-উপভোগকারীদের উদ্দেশ্য থেকে ভিন্ন ছিল। স্বদেশে অভীষ্ট রাষ্ট্র গঠন, জাতি গঠন ও সমাজ গঠন ছিল তাঁর লক্ষ্য। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ছয় দফা প্রণয়ন ও প্রচারে এবং আন্দোলনে শেখ মুজিবুর রহমানের (১৯২০-১৯৭৫) সহকর্মী হিসেবে তিনি যে ভূমিকা পালন করেছেন, তা তাঁর বিস্ময়কর সংগঠননিষ্ঠা, সামর্থ্য ও যোগ্যতা প্রমাণ করে। তাঁকে ছাড়া ছয় দফা আন্দোলনের কালে (১৯৬৬-১৯৭১) শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ অন্য রকম চরিত্র লাভ করত। উন্নততর চরিত্র লাভ করত কি? দলীয় ব্যাপারে শেষ পর্যন্তই শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বের প্রতি তাঁর ছিল নিঃশর্ত সমর্থন। তবু ভুল-বোঝাবুঝি দেখা দিয়েছিল, যার পরিণতি মারাত্মক হয়েছে। খোন্দকার মোশতাক আহমদরা অবস্থার সুযোগ নিয়েছেন। তাতে রাষ্ট্র ও জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সবচেয়ে বেশি।

তাজউদ্দীনের সংগঠনমনস্কতা আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে অল্পই গুরুত্ব পেয়েছে। শেখ মুজিব সাংবিধানিক ব্যাপারে সাফল্য অনুভব করেছেন আওয়ামী লীগের সমর্থনে এবং নিজের সমর্থনে জনসাধারণকে জয় করতে পেরেই তাঁর উৎসাহ ছিল প্রতিপক্ষের মোকাবিলায়, দলীয় আত্মগঠনের এবং জনসমর্থনকে দীর্ঘস্থায়ী করার সমস্যাবলি নিয়ে অল্প ভেবেছেন। দলের ভেতরে গণতান্ত্রিক শৃঙ্খলা ও রীতিনীতি ও আত্মসমালোচনা বলে কিছুই বিকশিত হয়নি। ফলে স্বাধীন বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের রাজনীতি অতি দ্রুত ভেতর থেকে দুর্বল হয়ে পড়ল। অন্যান্য দলের রাজনীতিও এই দুর্বলতার শিকার ছিল। স্বাধীন বাংলাদেশে রাজনৈতিক দুর্বলতা প্রধান জাতীয় দুর্বলতা রূপে দেখা দেয়।

১৯৭১ সালে স্বাধীনতাযুদ্ধের কালে প্রবাসে গঠিত প্রথম বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যুদ্ধের রাজনৈতিক নেতৃত্বের তথা সার্বিক নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ। রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে নিজের শক্তির ওপর নির্ভর করে, ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রত্যক্ষ সহায়তা নিয়ে এবং সারা দুনিয়ার জনগণের সমর্থন নিয়ে, বিজয় অর্জন ও স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা এবং কর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র এবং জাতীয়তাবাদ ও তার সম্পূরক আন্তর্জাতিকতাবাদকে আদর্শ রূপে গ্রহণ করে রাষ্ট্র পরিচালনা ছিল তাঁর লক্ষ্যও। সেই ঐতিহাসিক মহালগ্নে প্রবাসে শেখ মুজিবুর রহমানের অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের দলীয় অন্তর্বিরোধের মধ্যে সরকার গঠন ও রাষ্ট্র পরিচালনার কাজটি ছিল সবচেয়ে জটিল ও দুরূহ। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে শেখ মুজিবুর রহমান সিদ্ধান্ত নিয়ে যুদ্ধে না যাওয়ার ফলে অবস্থা জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছিল। আওয়ামী লীগ ও অন্য সব দল সিদ্ধান্তহীন হয়ে পড়ে। পরে আওয়ামী লীগ তাজউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে সিদ্ধান্ত নিয়ে সামনে চলে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে শেখ মুজিবুর রহমান সিদ্ধান্ত নিয়ে যুদ্ধে না যাওয়ার ফলে অবস্থা জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছিল। আওয়ামী লীগ ও অন্য সব দল সিদ্ধান্তহীন হয়ে পড়ে। পরে আওয়ামী লীগ তাজউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে সিদ্ধান্ত নিয়ে সামনে চলে।

খোন্দকার মোশতাক ও তাঁর কিছু অনুসারী তাজউদ্দীনের নেতৃত্ব মেনে নিতে চায়নি। যত দূর জানা যায়, মোশতাক শেখ মুজিবের নেতৃত্বও কখনো আন্তরিকভাবে মেনে নেননি। তিনি উচ্চাভিলাষী ছিলেন। নিজেকে তিনি অধিকতর যোগ্য মনে করতেন এবং দলে সর্বোচ্চ আসন আশা করতেন। তখনকার বিশ্ব বাস্তবতায় মোশতাকের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ছিল দিল্লি-মস্কোর বিরোধী ও যুক্তরাষ্ট্রের অনুসারী। যুদ্ধকালে তিনি মার্কিন সহায়তা নিয়ে শেখ মুজিবের মুক্তির কথা বলেছিলেন। তিনি বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন না, প্রধানমন্ত্রী হতে প্রয়াসপর ছিলেন।

যুদ্ধকালে শেখ ফজলুল হক মণি ও তাঁর অনুসারীরাও তাজউদ্দীনের নেতৃত্ব মেনে নিতে চাননি। মোশতাকের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে এঁরা কাজ করতেন। মণিও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার অভিলাষী হয়েছিলেন। যুদ্ধকালীন মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি কর্নেল (পরে জেনারেল) এম এ জি ওসমানীও তাজউদ্দীনকে মানতে চাইতেন না—মোশতাকের সঙ্গেই তাঁরও ঘনিষ্ঠতা ছিল। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ট্র্যাজিক পরিণতির পরে মোশতাকের অনুকূলে ওসমানীর সক্রিয় ভূমিকার কথা স্মরণ করা যেতে পারে। ফজলুল হক মণি ও তাঁর অনুসারীরাও তাজউদ্দীন সরকারের প্রতি যথেষ্ট অনুগত না থাকার ফলে সমস্যা জটিল হয়েছিল। তাঁদের উদ্যোগে গঠিত মুজিব বাহিনী ওসমানীর কমান্ডের বাইরে থেকে যুদ্ধ করেছিল। ইন্দিরা সরকার তাঁদেরও আলাদাভাবে সহায়তা দিয়েছিল।

যুদ্ধকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বকে বোঝার জন্য যতই অনুসন্ধান করা যাবে, ততই এর মধ্যে জটিলতার সন্ধান পাওয়া যাবে। উপদলীয় বিরোধ, পারস্পরিক অবিশ্বাস, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, বহুবিধ চক্রান্ত ইত্যাদির ফলে যে ভীষণ জটিল অবস্থা তৈরি হয়েছিল, তার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাজ করতে হয়েছিল তাজউদ্দীনকে। ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়নের সহয়তা গ্রহণ, বিশ্বজনমতকে অনুকূলে রাখা, বিভিন্ন রাষ্ট্রের সমর্থন অর্জন—সব ব্যাপারেও তাজউদ্দীনের নেতৃত্ব অত্যন্ত সফল ছিল। প্রায় এক কোটি শরণার্থী ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল। ভারতে তাদের রক্ষা করার কাজও তাজউদ্দীন সরকার সাফল্যের সঙ্গে করেছিল। সর্বোপরি স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা। চরম প্রতিকূলতা অতিক্রম করে তাজউদ্দীন সরকার অর্জন করেছিল সাফল্য।

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠার জন্য ছয় দফা আন্দোলন যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি মুক্তিযুদ্ধও গুরুত্বপূর্ণ। তা ছাড়া বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠার পেছনে রয়েছে বহু সংগঠনের, বহু নেতার ও বহু লেখক-চিন্তকের অবদান। ইতিহাসকে বুঝতে হলে সবকিছুকেই যথোচিত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় ধরতে হবে। উপদলীয় বিরোধ মুক্তিযুদ্ধের সময় দেখা দিয়েছিল, বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পরও তার অবসান ঘটেনি। তা ছাড়া সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে কোনো নীতিও বাংলাদেশে কার্যকর হয়নি। তার ফলে এসেছে ট্র্যাজিক পরিণতি।

তাজউদ্দীন আহমদ ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতি ও সমাজসেবার সাথে অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। রাজনীতি ও শিক্ষা তাঁর হাতে হাত ধরে চলেছে। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর থেকে ভাষার অধিকারসহ বিভিন্ন আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ছিলেন। তিনি ছাত্রলীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৪৯ সালে আওয়ামী লীগ গঠিত হয়। তাজউদ্দীন ছিলেন এর মূল উদ্যোক্তাদের অন্যতম। ১৯৫৪ সালে তাজউদ্দীন প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। পরে তিনি আওয়ামী লীগের সাংস্ক্রিতিক ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৬২ সালে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে গনত্রন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে তিনি সক্রিয় অংশ নেন এবং কিছুকাল কারাবরণ করেন। বিখ্যাত ৬ দফার অন্যতম রুপকার ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ। সাংগঠনিক দক্ষতা ও একনিষ্ঠতার গুনে ইতোমধ্যে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হয়ে ওঠেন। ১৯৬৬ সালে তিনি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তাজউদ্দীন আহমদ তৎকালীন পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। পাকিস্তান সরকার সত্তরের গনরায়কে উপেক্ষা করলে বঙ্গবন্ধুর নেতৃতে দুর্বার অসহযোগ আন্দোলন গড়ে ওঠে। তাজউদ্দীন এ আন্দোলনে সংগঠক হিসেবে সক্রিয় ছিলেন। ১৯৭১ এর ২৫ শে মার্চ তারিখে পাকিস্তানিরা গণহত্যা শুরু করলে তাজউদ্দীন আহমদ ঢাকা ত্যাগ করে ভারতে চলে যান। ১০ ই এপ্রিল প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হলে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। নয় মাস কঠিন অবস্থা মোকাবিলা করে তিনি মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত করেন। তিনি মুক্তি বাহিনীর জন্য অস্ত্র সংগ্রহ, তাঁদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার ক্ষেত্রে বিশেষ উদ্বেগী ভূমিকা পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় আন্তর্জাতিক সমর্থন লাভের ক্ষেত্রেও তিনি অসামান্য অবদান রাখেন। ২২শে ডিসেম্বর তাজউদ্দীন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলামসহ বাংলাদেশ সরকারের নেতৃবৃন্দ ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করেন। শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে ফিরে আসলে তাজউদ্দীন আহমদ প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান। তিনি অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। ১৯৭৩-এ ঢাকা-২২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন৷ বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় বাজেট পেশ করেন, প্রথম পাঁচশালা পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন।

১৯৭৪ সালে আওয়ামী লীগের দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিলের সমাপনী অধিবেশনের বক্তৃতায় তিনি দল, সরকার এবং নেতা ও কর্মীদের মাঝে দূরত্ব দূর করে, সংগঠন এবং সরকারের মাঝে এক নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলতে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানান৷পরবর্তীকালে বঙ্গবন্ধুর সাথে তাজউদ্দীনের দূরত্ব সৃষ্টি হয়। বঙ্গবন্ধু তাঁর দীর্ঘ ৩০ বছরের বিশ্বস্ত রাজনৈতিক সহকর্মীকে ভুল বুঝেন। ১৯৭৪ সালের ২৬শে অক্টোবর তাজউদ্দীন মন্ত্রীসভা থেকে পদত্যাগ করেন। ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট প্রথম গৃহবন্দী ও পরে ২২ আগস্ট গ্রেফতার করা হয় তাঁকে।

১৯৭২ সালের ১০ ই জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু দেশে ফিরে আসার পর নতুন মন্ত্রীসভা গঠিত হয়। তাজউদ্দীন আহমদ অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত তিনি উক্ত দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ ই আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যা করার পর সকালেই তাজউদ্দীনকে গৃহবন্দী করা হয় এবং পরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ১৯৭৫ সালের ৩ রা নভেম্বর ভোর বেলা অন্য তিন জাতীয় নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী এবং কামরুজ্জামানের সঙ্গে তাকেও নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তিনি ছিলেন এদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম কান্ডারী। আমরা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম অগ্রপথিক তাজউদ্দীনের হত্যাকারীদের ঘৃণা করব, তাজউদ্দীনকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করব।

বাংলাদেশের অন্যতম স্রষ্টা তাজউদ্দীন আহমদের ৯৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জন্মদিনে তাঁকে জানাই শ্রদ্ধাঞ্জলি এবং তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি। আজ তাজউদ্দীন আহমদের জন্মদিনে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে আমরা স্মরণ করছি তাঁর কৃতি ও কীর্তি। মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অসামান্য অবদান জাতি কখনো ভুলবে না। ১৯৭১ সালে তাঁকে ছাড়া অন্য যাঁদের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা ছিল, তাঁরা কেউ প্রধানমন্ত্রী হলে ইতিহাস অন্য রকম হতো। ভালো হতো কী! তাজউদ্দীন আহমদের স্বপ্ন ছিল গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ ও তার সম্পূরক আদর্শের ভিত্তিতে বাংলাদেশকে জনগণের রাষ্ট্ররূপে গড়ে তোলার। সে স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য কাজ করলেই তাঁর প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা জানানো অর্থপূর্ণ হবে।

মোঃ আমিনুল ইসলাম রুদ্র, জন্ম : ১৪ জানুয়ারি, ১৯৮১। ডাক নাম রুদ্র আমিন (Rudra Amin)। একজন বাংলাদেশ কবি, লেখক ও সাংবাদিক। নক্ষত্র আয়োজিত সৃজনশীল প্রতিযোগিতা-২০১৬ কবিতা বিভাগে তিনি পুরস্কার গ্রহণ করেন। জন্ম ও শিক্ষাজীবন মোঃ আমিনুল ইসলাম রুদ্র ১৯৮১ সালের ১৪ জানুয়ারি মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর উপজেলার ফুলহারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মোঃ আব্দুল হাই ও মাতা আমেনা বেগম। পরিবারে তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি বড়। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা জীবন কেটেছে খাগড়াছড়ি এবং বগুড়া সদর উপজেলায়। বগুড়ার আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন পাবলিক স্কুল ও কলেজ থেকে এসএসসি ও মানিকগঞ্জের দেবেন্দ্র কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর তিনি ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি থেকে ডিপ্লোমা ইন কম্পিউটার গ্রাফিক্স ডিজাইন কোর্স সম্পন্ন করেন। কর্মজীবন মূল পেশা থেকে দূরে সরে গিয়ে তিনি লেখালেখি এবং সাংবাদিকতায় জড়িয়ে পড়েন। তিনি প্রায় সব ধরনের গণমাধ্যমে কাজ করেছেন। কাজ করেছেন দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকায়। বর্তমানে তিনি জাতীয় দৈনিক আলোকিত প্রতিদিন এর ষ্টাফ রিপোর্টার ও অনলাইন নিউজপোর্টাল নববার্তা.কম এর প্রকাশক ও সম্পাদক হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি উইকিপিডিয়াকে ভালোবেসে উইকিপিডিয়ায় অবদানকারী হিসেবে উইকিপিডিয়া অধ্যয়নরত আছেন। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ : যোগসূত্রের যন্ত্রণা (২০১৫); আমি ও আমার কবিতা (২০১৬); বিমূর্ত ভালোবাসা (২০১৮)। প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ : আবিরের লালজামা (২০১৭)।

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *